ভাঙ্গায় চায়ের দোকানীর সততায় ফেরল বৃদ্ধের ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক বৃদ্ধের ফেলে যাওয়া টাকার ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দরিদ্র চা দোকানী জুবায়ের মিয়া (৪২)।
টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মিরাজ শেখ (৬৬)। সেই সঙ্গে চা দোকানীকে প্রাণভরে দোয়া ও ধন্যবাদ জানালেন।
স্থানীয়রা জানায়, বৃদ্ধ মিরাজ শেখ ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহ মুল্লুকদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি হার্টের সমস্যার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ভাঙ্গা উপজেলা সদরে এসেছিলেন। পরে তিনি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পাশে জুবায়ের মিয়ার দোকানে চা পান করেন। সেখানে তিনি ভুলবসত ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকাভর্তি একটি ব্যাগ জুবায়ের এর চা দোকানে ফেলে চলে যান। চা দোকানী জুবায়ের ভাঙ্গা পৌরসদরের চন্ডীদাসদী মহল্লার বাসিন্দা।
ওই বৃদ্ধ দোকান থেকে চলে যাওয়ার অনেক পরে টাকার ব্যাগটি জুবায়ের মিয়ার চোখে পড়ে। জুবায়ের মিয়া টাকার ব্যাগ পেয়ে টাকার মালিককে খুঁজতে থাকেন। ব্যাগের মালিককে না পেয়ে একদিন পর তিনি ভাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় নিজ খরচে মাইকিং করান। টাকার প্রকৃত মালিক প্রমাণসহ ব্যাগটি নিতে আহ্বান জানানো হয়।
মাইকিংয়ের খবর শুনে মিরাজ শেখ বুঝতে পারেন, ওই দোকানেই তিনি বসেছিলেন। এর আগে টাকা কোথায় পড়ে গেছে, তা তিনি জানতেন না। তিনি ভাবতেও পারেননি কেউ টাকা পেয়ে প্রকৃত মালিককে পাওয়ার জন্য মাইকিং করবেন।
এদিকে দোকানে টাকা পাওয়ার পর জুবায়ের ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে বিষয়টি জানান। প্রকৃত মালিককে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য তার সহযোগিতা চান। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অবশেষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমের অফিস কক্ষে প্রকৃত মালিক মিরাজ শেখকে তার হারানো ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া বলেন, “আমি টাকার ব্যাগ পেয়ে হতবাক হয়ে পড়ি। কিন্তু পরের টাকা রাখার ক্ষমতা আমার নেই। টাকার প্রকৃত মালিককে খোঁজার জন্য আমি মাইকিং করি। এছাড়া আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের নিকট বিষয়টি জানাই। এর মধ্যে খবর পাই এক বৃদ্ধ টাকা হারিয়েছেন। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি প্রকৃত প্রমাণসহ তাকে ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের অফিসে আসতে বলি। সহকারী কমিশনার স্যারের তত্ত্বাবধানে হারানো টাকা প্রকৃত মালিককে দিতে পেরে আমি খুশি।”
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে বৃদ্ধ মিরাজ শেখ আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “ওই দিন (৯ ফেব্রুয়ারি) আমি আমার চিকিৎসার জন্য ব্যাংক থেকে টাকাটি তুলেছিলাম। চিকিৎসক জানিয়েছেন, আমার চিকিৎসা ঈদের পর হবে। এ জন্য আমি ব্যাগে ভরে টাকাটি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। বাড়ি গিয়ে দেখলাম, টাকার ব্যাগটি নেই। টাকার চিন্তায় আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। ভাবিনি চায়ের দোকানে টাকার ব্যাগ ফেলে এসেছি। জুবায়ের মিয়া অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি সৎ না হলে এই টাকা আজ আমি ফেরত পেতাম না। ব্যাগের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং কিছু ওষুধ ছিল। আমি সঠিক প্রমাণ দিতে পেরে আমার বৃদ্ধ বয়সের সঞ্চিত চিকিৎসার টাকা ফেরত পেয়েছি। এই টাকাগুলো না পেলে আমার চিকিৎসা করাই সম্ভব হতো না।”
ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম জানান, “কিছুদিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভা এলাকার চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি বেশ কিছু টাকা পেয়েছি। প্রকৃত মালিককে প্রমাণ সাপেক্ষে ফেরত দিতে চাই।’ তিনি আমার সহযোগিতা চান। আমি তাকে আশ্বস্ত করি। হারানো টাকা প্রকৃত মালিককে প্রমাণ সাপেক্ষে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি। চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া সততার প্রমাণ দিয়েছেন।”
১৩৯ বার পড়া হয়েছে