গুরুদাসপুরে হাট ইজারা নিয়ে উত্তেজনা: চাঁদা দাবির যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় হাটের ইজারা কেন্দ্র করে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে টেন্ডার জমা দেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা। ওইদিন উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা হাটের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু। এতে ক্ষুব্ধ হন অপর টেন্ডারদাতা রাজা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন রাজা। এ সময় উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু অভিযোগ করে বলেন, ইজারা না পেয়ে সবার সামনে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান এবং বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তার দাবি, তপুর কাছে তার এক বছর ধরে ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা টাকাই তিনি চেয়েছেন। প্রশাসনের সামনে চাঁদা দাবি করার প্রশ্নই আসে না বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ. হাই তালুকদার ডালিম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সামনে চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ক্ষোভের বশে রাজা তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’—এমন মন্তব্য করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কার্যালয়ের সামনেই এ ধরনের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে