মন্ত্রী হয়েও রিকশাতেই চলাফেরা করছেন মিজানুর রহমান
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী শহরে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও আগের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করছেন মিজানুর রহমান মিনু।
সরকারি গাড়ি ও প্রটোকল থাকা সত্ত্বেও শনিবার সকালে তিনি রিকশায় চড়ে নগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শনিবার সকালে নগরের ভদ্রা এলাকার বাসা থেকে দীর্ঘদিনের সঙ্গী রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুসের রিকশায় বের হন তিনি। প্রায় ১০ বছর ধরে কুদ্দুস মিনুকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি যান সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায়। সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে বের হওয়া বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কিছু সময় আড্ডা দেন।
পরে সাহেববাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুপুরে ফেরার পথে দড়িখড়বোনা এলাকার একটি সেলুনে যান তিনি। প্রায় ৪০ বছর ধরে একই সাধারণ সেলুনে চুল কাটান মিনু। সেলুন থেকে বের হয়ে আবার রিকশায় চড়ে বাসায় ফেরেন।
রিকশায় চলাচলের সময় তাঁকে হাসিমুখে পথচারীদের সালাম জানাতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষও আন্তরিকভাবে সালাম জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না।
জানা যায়, ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। টানা ১৭ বছর তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। মেয়র থাকাকালে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন।
মেয়র হওয়ার আগ থেকেই মিনু রিকশায় চলাফেরা করতেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গণসংযোগ করেছেন রিকশায় চড়ে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রচারণা চালিয়েছেন রিকশাতেই।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমার রিকশাতেই মিনু ভাই পুরো শহর ঘোরেন। আজও তিনি সরকারি গাড়ি নেননি। একজন মন্ত্রী হয়েও রিকশায় চলাফেরা করছেন— এটা আমার খুব ভালো লাগে।”
ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না জানান, তিনি ১১ বছর ধরে মিনুর সঙ্গে রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, “আজ সকালে প্রটোকলের জন্য পুলিশের গাড়ি এসেছিল, সরকারি গাড়িও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনি কোনো প্রটোকল নেননি। আগের মতোই রিকশায় বের হয়েছেন। তিনি সব সময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে চান।”
১১৯ বার পড়া হয়েছে