চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুনো ফুলে রাঙানো অস্থায়ী শহীদ মিনার
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতির পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের হাতে তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে স্থায়ী শহিদ মিনার না থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাঁশ এবং কঞ্চি ব্যবহার করে তৈরি করেছে মিনারের বেদি। শুধুমাত্র কাঠামো নয়, মিনারের গায়ে আঁকা হয়েছে রঙিন আল্পনা। শিশু শিক্ষার্থীরা জঙ্গল থেকে বুনো ফুল সংগ্রহ করে মিনারটি সাজিয়েছে।
সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। বেলা ১১টায় বিদ্যালয় থেকে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি, যা বরেন্দ্র অঞ্চলের আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে পুনরায় বিদ্যালয়ে শেষ হয়। এরপর শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা একে একে বুনো ফুল দিয়ে মিনারটি সাজায়।
এক শিক্ষার্থী সুরমিরা হাসদা জানিয়েছে, “আমাদের স্কুলে শহিদ মিনার নেই, তাই আমরা বন্ধুরা মিলে এটি বানিয়েছি। স্থায়ী মিনার না থাকলেও এই মিনার বানিয়ে আমরা আনন্দ পাচ্ছি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলীউজ্জামান বলেন, “২০০৭ সাল থেকে আমরা নিয়মিতভাবে এখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছি। শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ততা আমাদের মুগ্ধ করে। তারা নিজেরাই কঞ্চি কেটে মিনার তৈরি করে এবং আল্পনা আঁকে। এতে তাদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই ভাষার প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি শফিকুল আলম ভোতা যোগ করেন, “শহরের চাকচিক্য এখানে নেই, কিন্তু ভালোবাসার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থীরা দেখাচ্ছে, ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে শুধু স্বচ্ছ হৃদয় এবং এক মুঠো বুনো ফুলই যথেষ্ট।”
বাবুডাইং আলোর পাঠশালার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, একুশের চেতনা কেবল শহরের দামী সৌধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরেন্দ্রের লাল মাটিতে নিজস্ব হাতে তৈরি এই অস্থায়ী মিনারে যে মমতা এবং গভীর শ্রদ্ধা মিশে ছিল, তা যেকোনো স্থায়ী কাঠামোর চেয়েও উজ্জ্বল।
১২০ বার পড়া হয়েছে