নলডাঙ্গায় ফুটবলের আঘাতে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের অভিযোগ
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায় ফুটবলের আঘাতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি উপজেলার দূর্লভপুর এলাকায়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নলডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দূর্লভপুরের একটি মাঠে ফুটবল খেলার সময় একটি বল পাশের একটি বসতবাড়িতে গিয়ে পড়ে। সে সময় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জেবা রায়সা (২০)-এর পাজরে বলটি সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেদিন ফুটবল খেলার সময় বল গিয়ে লাগে জেবা রায়সার শাশুড়ির শরীরে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা মনজুর আলম (৪৫), তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৮) ও জেবা রায়সাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—মোঃ বাবলু সরদার (৫০), মোঃ রহিম সরদার (৭২), মোঃ আনোয়ার হোসেন সরদার (৪৫), মোঃ সুলতান সরদার (৪৫) ও মোঃ হোসেন সরদার (২৫)।
ঘটনার পর দূর্লভপুর ও বিরকুৎসা রেলস্টেশন সংলগ্ন লাহেরীপাড়া মাঠ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আহত পরিবারের সদস্যরা জানান, অনাগত সন্তানের মৃত্যুর বিচার তো দূরের কথা, প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন মন্টু বলেন, বলের আঘাতে গর্ভপাতের ঘটনা ও পরবর্তী মারধরের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি।
নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে