জামালপুর-শেরপুর ব্রিজে বাবা-ছেলের মৃত্যু: পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুর-শেরপুর ব্রিজ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নিহত ইশতিয়াক আহম্মেদের পরিবার ও তার বন্ধুমহল।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন এবং ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতরা হলেন-শেরপুর সদর উপজেলার চরমুচরিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ার চর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তার ছেলে ইশতিয়াক আহম্মেদ (২৩)। এ ঘটনায় দেলোয়ারের ছোট ছেলে আবরার (৫) অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে জামালপুর থেকে গ্রামের বাড়ি শেরপুরের কেন্দুয়ার চরে ফিরছিলেন দেলোয়ার মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন তার দুই ছেলে। ব্রিজ পার এলাকায় পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় শেরপুরগামী একটি ট্রাককে থামানোর জন্য পুলিশ সংকেত দিলে ট্রাকটির পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখন বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার মাহমুদ ও ইশতিয়াক আহম্মেদের মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইশতিয়াকের বন্ধুরা অভিযোগ করেন, ব্রিজসংলগ্ন চেকপোস্টটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং গাড়ি থামানোর সংকেত ছিল নিয়মবহির্ভূত। তাদের দাবি, পুলিশের সংকেতের কারণেই মোটরসাইকেলটি দুই ট্রাকের মাঝখানে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দেলোয়ার মাহমুদ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট জীবিত ছিলেন। কিন্তু দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব, নাকি থানা পুলিশের? একই সঙ্গে তারা বলেন, দুর্ঘটনার পর ভিডিও ধারণ করা কি পুলিশের দায়িত্ব, নাকি সাংবাদিকদের?
বন্ধুমহল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান। প্রয়োজনে বিষয়টি উচ্চপর্যায় পর্যন্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, দেলোয়ার মাহমুদ দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন। পরিবারটি আগে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলেও প্রায় তিন বছর আগে জামালপুরে চলে আসে। ইশতিয়াক পড়াশোনার কারণে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করতেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আরপি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের (RPSU) বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলকাম ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
রমজানের ইফতার উপলক্ষে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে জামালপুরে আসেন। সেখান থেকে বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
পরিবারটিতে এর আগেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা রয়েছে। ইশতিয়াকের বড় ভাই ইমরান ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জে পৃথক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান, সাব্বির আহমেদ, কাউসার আহমেদ, রাব্বি নাঈম হাসান, নিহতের চাচাতো ভাই সমীর হোসেনসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনেই চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছিল। তাকে চেকপোস্টে গাড়ি থামানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে