জুলাই সনদে এনসিপির শেষমুহূর্তের সই: রাজনৈতিক হিসাব নাকি সংসদী অঙ্ক?
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক শেষ দিনে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
জুলাই সনদে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়েছিল চার মাস আগে; তখন বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি দল সই করলেও এনসিপি অনুষ্ঠানে যায়নি এবং স্বাক্ষরও করেনি। নাহিদ ইসলাম তখন যুক্তি দিয়েছিলেন, আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন আদেশ নিশ্চিত না হলে জুলাই সনদে সই করা “শুধু আনুষ্ঠানিকতা” হবে এবং তা অর্থবহ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
এনসিপির দাবি ছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট বাতিল বা পুনর্বিবেচনা এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশগুলো স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করার আগে তারা সই করবে না; একই কথা একাধিক বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে পুনর্ব্যক্ত করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করে, কমিশনের সুপারিশ ও বাস্তবায়ন প্রস্তাবে তাদের নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করা হয়েছে এবং জুলাই সনদের কিছু ধারায় গণভোটের প্রশ্নে তারা প্রকাশ্য আপত্তি জানায়। ফলে একদিকে যখন বিএনপি জুলাই সনদের কিছু অংশকে ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিচ্ছিল, অন্যদিকে এনসিপি আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া না দেখে সনদে সই না করার অবস্থান ধরে রাখে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়ে নতুন জাতীয় সংসদ গঠনের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই এনসিপি হঠাৎ করে শর্তসাপেক্ষে জুলাই সনদে সই করলো বলে জানায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে এবং “আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার” আশ্বাস পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যদিও কী ধরনের লিখিত নিশ্চয়তা বা সংশোধন তারা পেয়েছেন তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি এনসিপি সংসদে বেশি আসন পেত বা জামায়াতের বাইরে ভিন্ন জোটগণিত দাঁড়াত, তাহলে কি এই স্বাক্ষর আরও পিছিয়ে যেত, কিংবা আদৌ হতো কি না। জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনাগ্রহের পর নির্বাচনের ফল, সংসদী অঙ্ক এবং আগামী সরকার গঠনের ক্ষমতার ভারসাম্য—সব মিলিয়েই এনসিপির এই শেষমুহূর্তের স্বাক্ষরকে অনেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।
১২৫ বার পড়া হয়েছে