তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সরকারের পথচলা। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো একই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নিল।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে নবগঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তী শাসনের পর নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন পর্ব শুরু হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। ঢাকায় ও বগুড়ায় দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তারেক রহমান। অতীতে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল দেশ। এর আগে প্রায় তিন দশক ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি দলের চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বেই দল নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ–বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি দল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০৭ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে যান। ২০০৯ সালে বিএনপির কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং দলকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আসে তাঁর বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর কাছ থেকে। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৮১ সালে নিহত হন। এরপর খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। তাঁদের একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর বিএনপির সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য ও চ্যালেঞ্জের সূচনা হলো। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কতটা সফল হয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা বজায় রাখতে পারে।
১১০ বার পড়া হয়েছে