সর্বশেষ

জাতীয়রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফের নাম জোরালো, আলোচনায় নজরুল ইসলাম খানও
নতুন মন্ত্রিসভা ছোট আকারে, গুরুত্ব পেতে পারেন প্রবীণ-নবীন ও দক্ষ নেতারা
জুলাই জাতীয় সনদে আজ সই করছে এনসিপি
সারাদেশশেরপুরে দরিদ্রদের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৬
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান: নেশাজাতীয় সিরাপসহ আটক ১
নারায়ণগঞ্জে দুই স্থানে লাশ উদ্ধার: সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত নারী, সোনারগাঁয়ে যুবক নাঈম খুন
ভোটারদের হুমকি–মারধরের অভিযোগে বেলকুচিতে দুই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত
কুড়িগ্রামে সাবেক সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে বিএনপি কর্মীসহ আহত ৫
হিলিতে নিজ শয়নকক্ষ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
আন্তর্জাতিকট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ থেকে সহায়তার আশ্বাসের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১
খেলাপাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত
সাহিত্য

ভালোর ভালো সর্বকাল, আর মন্দের ভালো কিছুকাল ---

হাবীব চৌহান
হাবীব চৌহান

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ইকবাল সরদারকে শুধু নামেই চেনে না—চেনে এক ধরনের ভরসা হিসেবে। ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি গ্রামীণ লোকজ ইতিহাস, গল্প-কাহিনী আর অভিজ্ঞতার এক জীবন্ত ভাণ্ডার।

বংশপরম্পরায় সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে করতে তিনি হয়ে উঠেছেন গ্রামের প্রামাণিক—মাতুব্বর। বংশ বড়, লোকসংখ্যা বেশি, তাই গ্রামের অনেক কথাই শেষ পর্যন্ত এসে থামে তাঁর কাছেই।

কথা প্রসঙ্গে একদিন তিনি বলছিলেন তাঁর শৈশবের কথা। শহর থেকে দূরের এই প্রত্যন্ত গ্রামে তখন অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। শুধু খাবার বা আর্থিক নয়—মানুষের সভ্যতা আর সৎ স্বভাবেরও ছিল চরম অভাব। সেই অভাব থেকেই জন্ম নিত অসৎ পথ, আর অনৈতিক কাজ। প্রায়ই গ্রামে বসত সালিশ দরবার। অবাক করার মতো বিষয় হলো—একই ব্যক্তি একাধিকবার একই অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েও নির্লজ্জের মতো চলাফেরা করত। অথচ গ্রামের অনেক সাধারণ মানুষকে তখন লজ্জায় চোখ নামিয়ে, মুখ ঢেকে চলতে হতো।

সেই সময় ইকবাল সরদারের বাবা জীবিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সহজ-সরল কিন্তু দৃঢ় নীতির মানুষ। শুধু নিজের সন্তানদের নয়, গ্রামের অনেককেই তিনি একটাই কথা বলতেন—
“মনে রেখো- ভালোর ভালো সর্বকাল, আর মন্দের ভালো কিছুকাল।”
এই কথাটিই যেন ইকবাল সরদারের জীবনের দিশারি হয়ে উঠেছে। কথাটা বলতে বলতেই হঠাৎ দুই হাতে মুখ চেপে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে ফেলেন ইকবাল সরদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
আজও বাবার কথার বাইরে যাইনি।

তিনি জানান, অন্যের প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করছেন বহু বছর। সুযোগ ছিল অবহেলা করার, অসৎ পথে যাওয়ার। কিন্তু কখনো যাননি। সৎ পথে চলতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকে অবহেলিত, ছোট মনে হয়েছে।
আবার একই সঙ্গে মনে হয়েছে, তিনি খুব ভালো আছেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, মানুষ গোপনে যা করে, আড়ালে যা ভাবে—সবই সৃষ্টিকর্তা জানেন। ইহলোক বা পরলোক—কোনো না কোনো সময় প্রত্যেককেই নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হয়।

ইকবাল সরদারের দুই ছেলে। বড় ছেলে ভালো বেতনের চাকরি করে শহরে থাকে, পরিবার নিয়ে সুখেই আছে। আরেক ছেলের পড়াশোনা শেষের পথে। তিনি বলেন, বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই শিক্ষাই তিনি বারবার তাঁর ছেলেদের বলেন—ভালো ও সততার সঙ্গে চলতে। কারণ তিনি জানেন, এই শিক্ষা শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজকেও আলোকিত করে।

ইকবাল সরদারের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সময়ের চাপে, অভাবের তাড়নায়, অন্যায়ের ভিড়ে সৎ থাকা কঠিন হলেও তা কখনো বৃথা যায় না। মন্দ পথ হয়তো কিছুদিন ঝলমল করে, কিন্তু টিকে থাকে না। আর ভালো পথ—নীরব, ধীর—তবু স্থায়ী।

ভালোর ভালো সর্বকাল।
এই কথাটাই আজ সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী মন্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক।

১৪২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন