৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিতের দাবি পূরণ না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও ১১ দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে জোটগতভাবে দায়িত্ব পালনের কথাও জানান তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। যেসব আসনে স্বল্প ব্যবধানে পরাজয় হয়েছে এবং কারচুপির প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেসব আসনে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর গেজেট প্রকাশ স্থগিতের আবেদনও করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গেজেট প্রকাশ করায় অনেক প্রার্থী সময়মতো আবেদন করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করার পরামর্শ দিলেও গেজেট প্রকাশের কারণ দেখিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে হাইকোর্টেও যাওয়া হবে। রোববার নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
জোটের সমন্বয়ক দাবি করেন, ৩০টির বেশি আসনে কারচুপির সুস্পষ্ট তথ্য তাদের কাছে রয়েছে, যা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়েছে। তাই প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ বসার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
‘না’ ভোট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের সমানসংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে এবং প্রতীকের পাশাপাশি ‘না’ ভোটেরও প্রচার চালানো হয়েছে। এতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং নারীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। কক্সবাজারে দুই দিনে তিনজন নারীকে আক্রমণের অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজয়ী প্রার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক আচরণ বন্ধ না হলে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এছাড়া পঞ্চগড় ও মুন্সীগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনায় তিনি ‘ফ্যাসিবাদে পুনর্বাসন’ করার অভিযোগ তোলেন এবং সংশ্লিষ্টদের তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
১১৯ বার পড়া হয়েছে