জয়পুরহাটে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ সম্পন্ন, ভোটগ্রহণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ ও জয়পুরহাট-২ সংসদীয় আসনের সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে দিয়ে ভোটগ্রহণের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ বিতরণ কার্যক্রম রাতের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলার দুটি আসনের অধীনে পাঁচটি উপজেলার নির্বাচন অফিস থেকে মোট ২৫৫টি ভোটকেন্দ্রে সিল, প্যাড, কাগজ-কলম, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কর্মকর্তারা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। র্যাব ও সেনাবাহিনী শহরে নির্বাচনী মহড়াও সম্পন্ন করেছে। এদিকে জেলার অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং শহরে যানবাহন চলাচলও কমে গেছে। ভোট দিতে অনেকেই গ্রামে নিজ নিজ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। ফলে পুরো জেলায় এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসাহ। শহরের সবুজনগর মহল্লার তরুণ ভোটার মুবিন চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন বলে আশা করছেন এবং সকালে সবার আগে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাসটার্মিনাল মহল্লার গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ভোটের পরিবেশ আনন্দমুখর হওয়ায় এবার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে আমতলী এলাকার মুদি দোকানি আলাল হোসেন মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও সাংবাদিক ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো হয়েছে, এতে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি ফলাফল নিয়েও যেন কারও সন্দেহ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, নির্বাচনী মালামাল বিতরণের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে দুই প্লাটুন র্যাব, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৬১৮ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ২২ জন পুলিশ ও প্রায় সাড়ে তিন হাজার আনসার সদস্য। পুলিশের বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ইতোমধ্যে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জেলায় একটি উৎসবমুখর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) আসনে মাসুদ রানা প্রধানসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, বাসদের ওয়াজেদ পারভেজ, বাসদ মার্কসবাদীর তৌফিকা দেওয়ান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৮৩ জন নারী, ৮ জন হিজড়া এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৮৩ জন পুরুষ ভোটার।
অন্যদিকে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মো. আব্দুল বারী ও জামায়াতের এসএম রাশেদুল আলম সবুজ। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন।
সব মিলিয়ে জয়পুরহাট জেলায় এখন নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও ভোটারদের উৎসাহে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
১০৪ বার পড়া হয়েছে