খুলনা-৫: বিএনপি-জামায়াতের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মুখোমুখি
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনা-৫ আসনটি ভোটার সংখ্যা প্রায় চার লাখের বেশি এবং এটি গঠিত ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ও ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে।
এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি-জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি ও বিসিবি’র সাবেক সভাপতি আলী আসগার লবি এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নব্বইয়ের দশক থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত উভয় নেতা একই জোটে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তারা এখন একে অপরের মুখোমুখি।
খুলনা-৫ আসনটি মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা, বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলা। ফুলতলা উপজেলায় কৃষির পাশাপাশি কিছু মিল-কলকারখানা রয়েছে। এ এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি পাটকল, বাংলাদেশ কেবল শিল্প, এসেনশিয়াল ড্রাগ্স, জাহানাবাদ সেনানিবাস অবস্থিত। ডুমুরিয়ার ভদ্রা, আপার ভদ্রা, ঘ্যাংরাইল, শৈলমারী, হামকুড়া, হরি নদীসহ ছোট-বড় নদীগুলো ভরাট হওয়ায় ডুমুরিয়া, ফুলতলা, যশোরের কেশবপুর, মনিরামপুর, অভয়নগর ও সাতক্ষীরার তালা, খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কিছু এলাকায় এটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।
ডুমুরিয়ার চুকনগরে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সবচেয়ে বড় গণহত্যার বধ্যভূমি। এখানে ১৯৭১ সালের ২০ মে পাক হানাদার বাহিনী ৭–৮ হাজার নিরস্ত্র নারী-পুরুষকে হত্যা করে। ঐতিহাসিকভাবে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা কৃষক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত; ডুমুরিয়ায় কৃষক নেতা বিষ্ণু চ্যাটার্জির চারণভূমি ছিল। এছাড়া ফুলতলার দক্ষিণ ডিহি এলাকায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শশুর বাড়ি ও পায়গ্রাম কসবায় পীর খানজাহান আলীর মসজিদ অবস্থিত।
খুলনা-৫ আসনে বিগত দিনে অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে নির্বাচিত হয়ে প্রথমবার এমপি হন। তিনি তখন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর ছিলেন এবং বর্তমানে জামায়াতের সহকারী থেকে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল পদে আছেন।
অপর দিকে বিএনপি প্রার্থী আলী আসগার লবি, যিনি আগে খুলনা-২ আসনের এমপি ছিলেন, এবার পূর্বপুরুষদের ভিটায় ফিরে খুলনা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে। দুই প্রার্থীই এলাকার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এ আসনে লক্ষাধিক সনাতনী ভোট রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ আওয়ামী লীগের সমর্থকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থাকতে চাইছেন। এ জন্য প্রার্থীরা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদার বিষয়েও নজর দিচ্ছেন। ভোট কৌশলবিদরা মনে করছেন, এই দুই প্রার্থীরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হলো এই সনাতনী ও আওয়ামী সমর্থকরা।
নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ ও গণনার পর। শেষ হাসি কার, তা তখনই নিশ্চিত হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে