ফরিদপুরে দোলনের সমর্থনে ধানের শীষের পাল্লা ভারী, জামায়াতের নতুন সমীকরণ
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র তিন দিন। ভোটের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ ততই দ্রুত পাল্টাচ্ছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে ভোটের রাজনীতি।
দোলনের সমর্থন ও ধানের শীষের শক্ত অবস্থান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ আসনের অন্যতম শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী (জাহাজ প্রতীক) আরিফুর রহমান দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে (ধানের শীষ) সমর্থন দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা বাতিল হলেও তার এই সমর্থন ধানের শীষের জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক এই কৃষকলীগ নেতার সংখ্যালঘু ভোটার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর ভালো প্রভাব রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দোলনের সমর্থনের ফলে তার নিজস্ব ভোটব্যাংকের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভোট এখন ধানের শীষের ঝুলিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে দুই প্রার্থীর মধ্যকার কাদা-ছোড়াছুড়ির অবসান ঘটায় সাধারণ ও সচেতন ভোটাররা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, 'স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন ছোটভাই হিসেবে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে এবং মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। আল্লাহ সহায় থাকলে বিপুল ভোটে জয়লাভের আশা করছি।'
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'কৃষকদলের সিনিয়র নেতা হিসেবে তিন উপজেলাতেই নাসিরুল ইসলাম জনপ্রিয়। আমরা আশাবাদী তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবেন।'
জামায়াতের কৌশল ও আওয়ামী ভোটব্যাংক অন্যদিকে, বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) অধ্যাপক (অব.) ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। বিএনপির প্রার্থী যেখানে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, সেখানে জামায়াত প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
সচেতন ভোটার মহলের ধারণা, ভোটের শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যদি জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের মতো এ আসনের সামগ্রিক ফলাফলেও বড় ধরনের বিপর্যয় বা পরিবর্তন ঘটতে পারে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের আমীর ডা. মো. শফিকুর রহমান ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এক সমাবেশে ড. ইলিয়াস মোল্লাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিষয়ে ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, 'জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনা সনদে রাষ্ট্র গঠন, পাচার রোধ এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ১৮ কোটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের নিরাপদে চলাফেরা নিশ্চিত করাসহ নবীর আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব।'
প্রার্থী ও ভোটার পরিসংখ্যান বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৮৮৪ জন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৮৫৪ জন।
এ আসনে শুরুতে ১২ জন বৈধ প্রার্থী থাকলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শরাফাত ও জাতীয় পার্টির (জেপি) শাহ মো. আবু জাফর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে বাদ পড়েন আরিফুর রহমান দোলন।
বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীরা হলেন: খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি),,ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী), আবুল বাশার খান (স্বতন্ত্র, শিল্পপতি), সুলতান আহম্মেদ (জাতীয় পার্টি), খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মৃণ্ময় কান্তি দাস (মাইনোরিটি জনতা পার্টি), মো. হাসিবুর রহমান (জাতীয় নাগরিক পার্টি), গোলাম কবির মিয়া (স্বতন্ত্র)।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বিগত ১৫ বছরে হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে এবং দোলনের সমর্থন নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে মসজিদ-মাদরাসা ভিত্তিক প্রচারণায় জামায়াতও তাদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে