বাগেরহাট-৩: বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটের মাঠে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন চিত্র।
আওয়ামী লীগের শূন্যতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে গড়ে উঠেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের বিশাল কিন্তু নীরব ভোটব্যাংক। এই ভোট কোন দিকে যাবে-সে প্রশ্নই এখন পুরো আসনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সুন্দরবন সংলগ্ন দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা এবং পাশের রামপাল উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ আসনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিবারই আওয়ামী লীগ এখানে জয়ী হয়েছে-কখনো এককভাবে, কখনো জোটগতভাবে বিএনপি ও জামায়াতকে পরাজিত করে। তবে এবারের নির্বাচন সেই ধারায় ছেদ টানতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মী নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকায় অনুপস্থিত কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের অনেকেই ভোটের দিন কেন্দ্রে যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের পরিবার-পরিজন ভোট দেবেন কি না-এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চিত ও নীরব ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
এ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই ভোটের বড় অংশ আওয়ামী লীগের ঝুলিতে গেলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত অনেক আওয়ামী সমর্থক এখনও আত্মগোপনে থাকায় তাদের ভোটের গন্তব্য নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয় তাদেরই হবে। দলটির এক জোট নেতা বলেন, রামপাল-মোংলার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাদের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। মানবিক দায় থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ভোটাররা যদি তা মূল্যায়ন করেন, তাহলে ফল আমাদের অনুকূলে আসবে।'
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ শেখ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ পতনের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় তাদের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের ধারাবাহিকতাই ভোটে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে পুরো আসনজুড়ে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত ঘুরে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এবার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও কাজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, বাগেরহাট-৩ আসনে এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আওয়ামী লীগের নীরব ভোটব্যাংক যদি বিভক্ত হয়, তাহলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। আর যদি কোনো একটি পক্ষ সেই ভোটের বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে পারে, তবে ফলাফল একতরফাও হতে পারে।
২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ ভোটারের রায় কার পক্ষে যাবে-তার উত্তর মিলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গভীর রাতে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে