বান্দরবানে ভোটের মাঠে দাপুটে প্রচারণা, পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে জেরি
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বান্দরবান-৩০০ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি- সবখানেই সরব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি। ক্লান্তিহীন গণসংযোগ ও সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ততা বাড়ছে এই প্রার্থীর। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পাড়া-মহল্লা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও জনবসতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সাধারণ মানুষের সাড়া আশাব্যঞ্জক।
গণসংযোগকালে সাচিং প্রু জেরি বলেন, পাহাড়ের মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়। তারা শান্তি, সম্প্রীতি ও বাস্তব উন্নয়ন চায়। দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের মানুষ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। নির্বাচিত হলে সবার আগে সেই বৈষম্য দূর করতে কাজ করব। বান্দরবানকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন পাহাড়ি অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনায়। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরছেন তিনি।
তার সরাসরি উপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। কয়েকজন ভোটার জানান, বান্দরবান-৩০০ আসনে তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি সব সময় জনগণের পাশে থাকবেন। জেরি সাহেবের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে এবং তিনি এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং কয়েকটি দলের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার সক্রিয় সংযোগও নির্বাচনী দৌড়ে তাকে এগিয়ে রেখেছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এখন শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের মানুষ কার পক্ষে রায় দেন, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে