টাঙ্গাইলে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।
প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, ভোটারদের আলোচনা আর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সর্বত্র। দিন-রাত চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা সব জায়গায় চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।
তবে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট দলগুলোর পক্ষ থেকে উঠছে নানা অভিযোগ। তাদের দাবি, এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টিও। তাদের ভাষ্য, সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে বড় দলগুলোর প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার আটটি আসনে আটজন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বিএনপিও হেভিওয়েট প্রার্থীসহ আটজনকে মাঠে নামিয়েছে। প্রার্থীরা রাত-দিন প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৮টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন ১৩ হাজার ৫ শতাধিক আনসার সদস্য। মাঠে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের দাবি, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
টাঙ্গাইল জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন, নারী ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন এবং হিজড়া ভোটার ২৫ জন। জেলার মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৬৩টি।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই ভোটের বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে বিজয়ের হাসি, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে