যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা অব্যাহত, ওমানে আলোচনায় বসছে দুই পক্ষ
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক।
কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতায় আলোচনার একটি নীতিগত কাঠামো উভয় পক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উদ্দেশ করে ফের কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনির ‘খুব চিন্তিত থাকা উচিত’, কারণ ইরানের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী সামরিক বহর মোতায়েন রয়েছে। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর অভিযোগ তুলে বলেন, এমন হলে তেহরানকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের হুমকি ও বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলায় দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হিজবুল্লাহর মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়াতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ওমানের আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেবেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকের আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আলোচনার পরিধি কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সংঘাত এড়াতে আঙ্কারার সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ কমেছে।
এর মধ্যেই উপসাগরের ফারসি দ্বীপের কাছে দুটি ‘জ্বালানি চোরাচালানকারী’ জাহাজ আটক করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রস্তাবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে তা ১.৫ শতাংশের নিচে সীমিত রাখতে হবে। বর্তমানে মজুত প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অ-আগ্রাসন চুক্তি’র প্রস্তাবও রয়েছে।
চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরান মাটির নিচে নির্মিত একটি নতুন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির উদ্বোধন করেছে। বুধবার ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এ তথ্য জানায়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি ঘাঁটিটি পরিদর্শন করে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে