রাবিতে গণভোটে উত্তেজনা: শিক্ষকদের নাম তালিকাভুক্ত করলেন জিএস
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গণভোট জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার হঠাৎ মাইকে কয়েকজনকে ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষক’ বলে উল্লেখ করে নাম ঘোষণা করলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তিনি বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষকেরা জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিএসই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা। তার পরই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানে এমন ব্যক্তিরা উপস্থিত আছেন, যারা জুলাই আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।”
এ সময় তিনি হাতে থাকা তালিকা থেকে কয়েকজন শিক্ষকের নাম ঘোষণা শুরু করেন। সঞ্চালক তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আম্মার বলেন, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে।” পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপাচার্য মঞ্চে এসে তাকে থামান এবং অনুষ্ঠান শেষে তালিকা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে আম্মার ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্তরা জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, বয়ান তৈরি ও অর্থায়নে সহযোগিতা করেছেন। তালিকায় ছিলেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকারসহ আরও অনেকে।
তিনি জানান, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত না নিলে, সভাস্থলের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সংহতি ও সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান আম্মার।
১১৮ বার পড়া হয়েছে