পটুয়াখালীতে নুরুল হকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দশমিনা উপজেলা সদর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা হাসান মামুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবির মুখে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।
আবদুল আলীম তালুকদার দাবি করেন, বিএনপির সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে নুরুল হক নূর নির্বাচনী প্রচারণায় নানা ধরনের অনিয়ম করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নুর গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষকে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন এবং তার কর্মীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি নূর নিজেকে আগাম বিজয়ী দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, নূর তার নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে বিএনপি চেয়ারপারসনের পুত্র ও দলীয় নেতা তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন করাও নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেন তারা। প্রশাসনের সামনে এসব ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
আরও অভিযোগ করা হয়, নূরের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি নূরের অনুসারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও কর্মী-সমর্থকদের মারধর করেছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, রুহুল আমিন মোল্লা, মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মিজানুর রহমান জমাদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল, হুমায়ুন কবির মিলন, মাসুদুর রহমান পঞ্চায়েত, সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল মৃধা, অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন, কোষাধ্যক্ষ মো. মফিজুর রহমানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল হক নূর। তিনি বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তার অনুসারীরা তার প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে হাসান মামুন মিলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন এবং তার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নূর আরও বলেন, জোটের প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করার অধিকার তাদের রয়েছে। পাশাপাশি হাসান মামুন নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন করেছেন বলেও পাল্টা অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
১৮১ বার পড়া হয়েছে