সর্বশেষ

জাতীয়দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক
শেখ হাসিনার দপ্তর ও গণভবনের খাবারের বিল বাকি আড়াই কোটি
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পাশে থাকার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
সারাদেশ২১ বছর পর টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ব্যাপক প্রস্তুতি
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যু: তিন দিন পর হত্যা মামলা দায়ের
আন্তর্জাতিকইরানে শাসন পরিবর্তনে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে’ হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
রাজনীতি

আল-জাজিরার প্রতিবেদন

নিষেধাজ্ঞায় আওয়ামী লীগ: রাজনৈতিকভাবে কী টিকে থাকতে পারবে?

আল-জাজিরা
আল-জাজিরা

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:২৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পদ্মা নদীতে রাতভর মাছ ধরে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তীরে ভেড়ান মাঝি রিপন মৃধা। পা ধুতে ধুতে পাশের বাজারের দোকানগুলোর দেয়াল ও শাটারের দিকে তাকিয়ে পড়েন তাঁর চোখ। কিছুদিন আগেও সেখানে ঝুলে থাকা আওয়ামী লীগের পোস্টার, ব্যানার কিংবা নেতাদের ছবি—এখন সবই উধাও।

রাজবাড়ী জেলার এই জনপদে একসময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দাপট স্পষ্ট ছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির শাসনের অবসান ঘটে ওই আন্দোলনের মাধ্যমে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।

অভ্যুত্থানের পর সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন—যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না।

আজীবন আওয়ামী লীগের ভোটার বলে পরিচয় দেওয়া রিপন মৃধা বলেন, দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে তাঁর আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। তবু ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তবে ব্যালটে নৌকা প্রতীক না থাকায় কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন।

রিপন জানান, ভোট না দিলে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। তিনি বলেন, “অনেকে মনে করছে ভোট না দিলে আমাদের টার্গেট করা হতে পারে।”

নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানিও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকেরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে দলের পুরোনো সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ ভোট দিতে চান, কেউ আবার নির্বাচন পুরোপুরি বর্জনের পক্ষে।

গোপালগঞ্জের রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, “নৌকা ছাড়া নির্বাচন কোনো নির্বাচনই না।” তিনি ও তাঁর পরিবার ভোট দেবেন না বলে জানান।

ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন পরিত্যক্ত। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ভবনটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সেখানে গৃহহীনরা আশ্রয় নিয়েছেন। ভবনের কিছু অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে অস্থায়ী শৌচাগার হিসেবে।

কার্যালয়ের সামনে হকার আবদুল হামিদ বলেন, “এখন আর আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক চোখে পড়ে না। কেউ থাকলেও পরিচয় দেয় না।”

তার পাশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতীকসংবলিত মাফলার বিক্রি করছেন হকার সাগর। তিনি জানান, এসব মাফলার ভালোই বিক্রি হচ্ছে।

তবে দলের ভেতরে এখনো প্রত্যাবর্তনের আশা রয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান বলেন, “দল কৌশলগত নীরবতায় আছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে—এটা অসম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে, আর শেখ হাসিনাকে নিয়েই ফিরবে।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হবে। তাঁর মতে, দলটি ছাড়া নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ধীরে ধীরে স্থানীয়ভাবে অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মিশে যাবে।

তিনি বলেন, “একবার নির্বাচন হয়ে গেলে দলটির জন্য আগের অবস্থানে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।”

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এক জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের এখনো প্রায় ১১ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। তবে দেশে দলটির কোনো কার্যকর রাজনৈতিক উপস্থিতি নেই।

এদিকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তাঁর একটি অডিও ভাষণ সম্প্রতি প্রকাশ পেলে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের দমন-পীড়নের কারণে অনেক মানুষের চোখে দলটি বৈধতা হারিয়েছে।

তবু তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বড় দলগুলো সহজে বিলুপ্ত হয় না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রাজবাড়ীর মাঝি রিপন মৃধা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পরও আওয়ামী লীগ টিকে থাকার লড়াই করেছিল—সে কথা তাঁর বাবা বলতেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তাঁর ভাষায়, “এই বছরটা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতোই মনে হচ্ছে।”

(আল-জাজিরার প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত অংশ)

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন