গোপালগঞ্জ-০২ আসনে স্বতন্ত্রদের দাপট, চাপে বিএনপিসহ দলীয় প্রার্থীরা
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-০২ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটের সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। ফলে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তুলনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন, নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ২৫৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫১টি।
স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি আওয়ামী লীগের ‘আতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত। টানা কয়েক দফা এখানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম। অধিকাংশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীরা জামানত হারিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, অন্তত ৯০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় এ আসনের ভোটের হিসাব বরাবরই জটিল।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোটব্যাংক দখলে নিতে মরিয়া বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতে পারেন।
এ আসনে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির দুই বিদ্রোহী ও সদ্য বহিষ্কৃত নেতাসহ ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বাকি ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী।
প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ডা. কে এম বাবর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শুয়াইব ইব্রাহিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম শিকদার, গণফোরামের শাহ মফিজ, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা এবং গণঅধিকার পরিষদের দ্বীন মোহাম্মদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আছেন কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, এম এইচ খান মঞ্জু, উৎপল বিশ্বাস, মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, রনি মোল্লা ও শিপন ভূঁইয়া।
এদের মধ্যে সাবেক জেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি এম এইচ খান মঞ্জু জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন। সিরাজুল ইসলামের রয়েছে নিজস্ব গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য ভোটভিত্তি। সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়ারও শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাঠে নেমেছেন উৎপল বিশ্বাস।
তবে ভোটারদের মধ্যে এখনও রয়েছে অনিশ্চয়তা। কেউ কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।
সব প্রার্থীরই প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের পাশে থাকার সুবাদে তারা ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের সমর্থকদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারলেই বিজয় নিশ্চিত হবে- এমনটাই বিশ্বাস করছেন তারা।
১৭০ বার পড়া হয়েছে