মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সর ব্যবহার করে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে রাজধানী কুয়ালালামপুরে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাজধানীর চেরাস এলাকার তামান এমাসে একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিদেশি নাগরিকদের আধিক্য ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরসহ নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ২৭৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর ১০ জন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযানে মোট ১ হাজার ৮৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসা ও পাসের শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে, কেউ সিলিংয়ের ওপরে লুকিয়ে পড়েন। তবে তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি ও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্যাটিআই (অবৈধ অভিবাসী) সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত সরকারি চ্যানেলে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আগামী এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলমান ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি জটিলতা এড়াতে পারেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে