স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পাঁচ দিন পর বাড়ি ফেরেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পাঁচ দিন পর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতেই তিনি স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী ছেলের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ এবং স্থানীয়রা।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সাদ্দাম অঝোরে কাঁদেন এবং স্ত্রী-সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। মোনাজাতে তিনি বলেন, “আমি এক হতভাগা স্বামী, এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। যদি আমার স্ত্রী হত্যার শিকার হয়ে থাকে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।”
মোনাজাত শেষে তিনি শ্বশুর বাড়িতে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং পরে একটি সাদা হাইয়েক্স গাড়িতে দ্রুত বের হন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, “কারাগারে থাকাকালীন আমার স্ত্রী মনে করেছে, আমি আর বের হতে পারব না। আমি মনে করি এটি পরিকল্পিত হত্যা। সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি; স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর বিনিময়ে আমি জামিন পেয়েছি।”
এদিন দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সাদ্দাম। গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ তাকে ছয় মাসের জামিন দেন।
সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরামের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) এবং ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর তাদের লাশ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে দাফন করা হয়। মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
১৫০ বার পড়া হয়েছে