আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান তারেক রহমান
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দুটি খাত কার্যকরভাবে সামাল দিতে পারলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সম্ভব।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কোনো মঞ্চ বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি। পার্কের উন্মুক্ত স্থানে লেকের ওপর কাঠের পাটাতনে বসে অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, সবার আগে মানুষ যেন রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিকে যেভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি স্তরেই আলাদা কৌশলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ তাঁর পরিকল্পনার অংশ বলেও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সভা–সমাবেশে সেই পরিকল্পনার কিছু দিক তুলে ধরেছেন তিনি। এর মধ্যে ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগের কথাও রয়েছে।
রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ঢাকায় তিন কোটির বেশি মানুষের বসবাস এবং সড়ক নকশা, গণপরিবহন ব্যবস্থা ও কেন্দ্রিক উন্নয়নের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সমাধান হিসেবে মনোরেল চালু, পার্শ্ববর্তী জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং রাজধানীর ভেতরে ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।
মেট্রোরেলকে ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে স্থাপন ও প্রয়োজনে স্থানান্তর করা সম্ভব।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পড়াশোনাকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে চান। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করা গেলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার জন্য নম্বর বরাদ্দের কথাও জানান তিনি।
সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একটি সমন্বিত টিমের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুর নির্যাতনের ভিডিও দেখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশুপাখির প্রতি সহানুভূতি তৈরির বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বামীহারা নারী, সিঙ্গেল মাদার ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষায় ১৩৮টি প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর সমন্বয় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডকে সর্বজনীন করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হয়রানি বন্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাইবার বুলিং ও সহিংসতার ক্ষতিকর দিক শেখানোর কথা বলেন তিনি।
এ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ডিজিটাল শিক্ষা জরুরি এবং ফেসবুকসহ বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর স্থানীয় কার্যালয় বাংলাদেশে থাকা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গত ডিসেম্বর মাসে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে রিল–মেকিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করে বিএনপি। এতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন অংশ নেন। বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণী এই আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
১৬৮ বার পড়া হয়েছে