চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ: রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের লড়াই শুরু
বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনি প্রচার। এর মধ্য দিয়ে ভোটের মাঠে নামছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ নিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটারদের কাছে যেতে শুরু করবেন।
বুধবার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। দলীয় প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্ধারিত প্রতীক পান। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং এনসিপির প্রার্থীরা ‘শাপলা কলি’ প্রতীক পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক প্রার্থী প্রচার শুরু করেছেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী আজ থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর কথা। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে। এ সময় নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসি।
প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই মাঠে নামছেন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন। এ সফরে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ মোট সাতটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সিলেটে তার এ সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর এলাকায় জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন। পরবর্তী কয়েক দিনে তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজ সকালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের মাজার এবং শহীদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দলটির প্রচারণা শুরু করবেন। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে দলটির।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মোট এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বিএনপির—২৮৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন, জাতীয় পার্টির ১৯২ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী রয়েছেন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগসহ সমমনা নয়টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
পুনঃতফসিল ঘোষিত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। উচ্চ আদালতের রায়ে কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
২৫২ বার পড়া হয়েছে