বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বেনাপোল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলা ও চার্জশিট দাখিলের পরও বহিরাগত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল রহমান চেম্বারের ‘দি সান রুফ’-এ বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। প্রতিবছর এই বন্দর থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। একসময় বন্দরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে ফিরে এসেছে।
তবে এই স্বাভাবিক ও শৃঙ্খলিত কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে একটি বহিরাগত চাঁদাবাজ চক্র। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কাস্টমস, বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে মনগড়া ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা বা অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন, যা সরকারের রাজস্ব আয় কমিয়ে দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে সুমন হোসেন নামের এক যুবকের বিষয়টি। তিনি বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাপোল গ্রামের বাসিন্দা। ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের দাবি, সুমন দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট দালালি, লাগেজ পারাপার এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বন্দর এলাকায় প্রবেশ করে যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া শেড ইনচার্জসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এই প্রেক্ষাপটে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চার্জশিট দাখিলের পরও অভিযুক্ত সুমন হোসেন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সে সময় সে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালাত এবং একবার তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউসে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটিয়েছিল। এসব কারণে তাকে বন্দর ও কাস্টম হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আইনের এই শিথিলতার সুযোগ নিয়ে বর্তমানে সুমন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে সে বেনাপোল এলাকায় অবস্থান না করলেও বাইরে থেকে মানবকণ্ঠ, সকালের সময়, ওয়ান নিউজ বিডি ও জনতার কথা পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, মামলা, নিষেধাজ্ঞা ও চার্জশিট থাকা সত্ত্বেও একজন অভিযুক্ত কীভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে?
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি যশোর থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা, কিছু অনলাইন পেজ এবং জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠে বেনাপোল বন্দর, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এসব সংবাদ বন্দর ও কাস্টমসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক অবস্থানকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে বলে দাবি করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বেনাপোল বন্দরে শতভাগ পণ্য পরীক্ষা, যথাযথ শুল্কায়ন ও রাজস্ব আদায়ের পরই মালামাল খালাস দেওয়া হচ্ছে। কঠোর নজরদারির মধ্যেই কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, বন্দর বিষয়ক সম্পাদক শামীম উদ্দিন গাজী, সহ দপ্তর সম্পাদক রয়েল হোসেন, সি অ্যান্ড এফ ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ, মারফাত আলী, নয়নসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা। এছাড়া ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে