সর্বশেষ

জাতীয়নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপি ২৭টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত
একাত্তরের স্বাধীনতা রক্ষায় চব্বিশের যুদ্ধ, এরাও 'মুক্তিযোদ্ধা': তারেক রহমান
আজ শেষ দিনের মতো মনোনয়ন আপিল শুনানি, প্রতীক বরাদ্দের প্রস্তুতি ইসির
গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬: স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: একদিনে ২১৬৭ মামলা
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন: শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনের আহ্বান উপদেষ্টার
প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি বার্তা : ভোটে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি রুমিন ফারহানার
সারাদেশমাদারীপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৬, আহত অন্তত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু
১২ দফা দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের র‍্যালি-সমাবেশ
হিলিতে শীতার্তদের পাশে সীমান্ত ব্যাংক, ২শ' জনের মাঝে কম্বল বিতরণ
দৌলতপুরে বিএনপি প্রজন্ম দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ
কুমারখালীতে ভোটার সচেতনতায় ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণা শুরু
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
সাভার কমিউনিটি সেন্টার থেকে আবারও দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধার
সলঙ্গায় বিদ্যুৎ মেরামতের সময় খুঁটি থেকে পড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মৃত্যু
গোবিন্দগঞ্জে ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ
কলমাকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যান-ইউএনও’র মধ্যে বাকবিতণ্ডা: চেয়ারম্যান বরখাস্ত
আন্তর্জাতিকইসরায়েলে বিক্ষোভ: শেষ জিম্মি রন গিভিলির দেহ ফেরত আনার দাবি
ইউরোপের ৮ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণা
খেলাবাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ ২০২৬ টিকিট আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের শুরু বাংলাদেশ দলের, যুক্তরাষ্ট্র হারল ২১ রানে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পরিবর্তন হবে না, শ্রীলঙ্কায় খেলবে তারা
সারাদেশ

পুনঃখননের অপেক্ষায় রক্তদহ বিল: ১৭০ কোটি টাকার ফসল সম্ভাবনা

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আংশিক অংশজুড়ে প্রায় ২২০ হেক্টর জমি নিয়ে বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল।

এই বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অন্তত ২৩টি গ্রাম। যুগের পর যুগ ধরে এসব গ্রামের মানুষ কৃষি ও মৎস্য নির্ভর জীবিকার মাধ্যমে রক্তদহ বিলের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিলটি পুনঃখনন না হওয়ায় বর্তমানে বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকছে পুরো এলাকা। ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মাছের পরিমাণও।

জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে রক্তদহ বিল এলাকার জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। অথচ বিলটি পুনঃখনন করা হলে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী জলাভূমি থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। শুধু তাই নয়, পুনঃখননের মাধ্যমে বিলের জীববৈচিত্র্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে আসবে আমূল পরিবর্তন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদদের মতে, জীবিকার মান উন্নয়ন, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রক্তদহ বিল পুনঃখননের কোনো বিকল্প নেই।

ইতোমধ্যে রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রক্তদহ বিলের আউটলেট রতনডারা খালের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে পাখি পল্লী ও মৎস্য অভয়াশ্রম। এই পর্যটন এলাকায় প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থী এসে প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখি পল্লীর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাখি পল্লীর সঙ্গে রক্তদহ বিলের জলকেলি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিলটি পুনঃখনন করা হলে পুরো এলাকার দৃশ্যপট বদলে যাবে এবং রক্তদহ বিলকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, পাখি পল্লীর সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার অধিকাংশের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলা (আংশিক) এবং বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা (আংশিক) মিলিয়ে ২২০ হেক্টর জমি নিয়ে রক্তদহ বিল গড়ে উঠেছে। এই বিলে মোট ২২টি ইনলেট খাল রয়েছে, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। অপরদিকে আউটলেট খালের দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার। জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মাত্র এক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে করে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার কৃষক পরিবারসহ মোট ৩৫ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ছে। পুনঃখনন না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবছর প্রায় ১৭০ কোটি টাকা মূল্যের ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান ও মুকুল হোসেনসহ অনেকেই বলেন, রক্তদহ বিল দুটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকার এই সম্পদ থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তাদের মতে, বিলটি পুনঃখনন করা হলে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বহুগুণে বাড়বে। এতে করে বিল ঘিরে বসবাসরত হাজার হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবীর জীবনমান বদলে যাবে এবং পুরো অঞ্চলের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থেও রক্তদহ বিল পুনঃখননের বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে বিল এলাকায় বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। বিল ও এর আশপাশের খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হয়ে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। তার হিসাব অনুযায়ী, খননের ফলে প্রতি হেক্টরে ১২ মেট্রিক টন হিসাবে বছরে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, খননকৃত বিল ও খালের মাটি ব্যবহার করে ১০ ফুট প্রশস্ত পাকা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা যাবে। পাশাপাশি খাল ও বিলের পাড়ে নির্মিত সড়কের ভাঙন রোধে রিটেইনিং ওয়াল বা কংক্রিট ব্লক দিয়ে বাঁধাই বা প্যালাসাইডিং করা সম্ভব হবে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে। সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এলাকায় বিশাল জলাধার সৃষ্টি হবে, যা মৎস্য উৎপাদন ও হাঁস পালন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ফলে দেশের মাছ, মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রামীণ সড়ক, খাল ও বিলের পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বড় জলাধার ও বৃক্ষরোপণের ফলে পাখির নিরাপদ অভয়াশ্রম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পুনঃখননের পর বিলের চারপাশে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য দোলনা, স্লিপার, ব্যালেন্সারসহ বিভিন্ন উপকরণ স্থাপন করা হলে এলাকাটি একটি স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

মো. রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, বিল পুনঃখনন ও সংরক্ষিত ভূ-পরিস্থ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার যেমন কমবে, তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও বৃদ্ধি পাবে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদকে টেকসই ব্যবহারের উপযোগী করতে ইতোমধ্যে বিল পুনঃখননের একটি প্রকল্প উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা করা এবং মানুষের জীবনমান বদলে দিতে রক্তদহ বিল পুনঃখননের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

১৩৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন