শরীয়তপুরে জিয়া মঞ্চ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে জিয়া মঞ্চের এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার টাউন চিকন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী জিয়া মঞ্চ শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস মাদবর অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী নিয়মিতভাবে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শনিবার সন্ধ্যায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, শোলপাড়া এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে টাউন চিকন্দী এলাকায় তাকে ঘিরে ধরে ছাত্রলীগের সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রায়হান আকনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি। হামলায় রিফাত আকন, সৌমিক আকন, দিদার হাওলাদার, অনিক মোল্লা, হান্নান মল্লিকসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
আব্দুল কুদ্দুস মাদবর দাবি করেন, হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি বাকি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। হামলাকারীরা নিজেদের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে পুলিশ ও প্রশাসন ‘ম্যানেজ’ করার হুমকিও দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইদ্রিস হাওলাদার ও রনি আকন জানান, দোয়া মাহফিল শেষে চিকন্দী বাসস্ট্যান্ডের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আব্দুল কুদ্দুস মাদবরের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের উপস্থিতি নেই। ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চায়ের দোকানে বসে আব্দুল কুদ্দুস মাদবর তাকে গালিগালাজ করলে উপস্থিত লোকজন প্রতিবাদ জানায় এবং সেখান থেকেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে