‘৫০ হাজার ভিসা দেবে তো?’-সমর্থকদের দাবিতে প্রশ্ন তুলতে পারে বিসিবি
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। এদিকে সমর্থকদের একাংশ দাবি তুলেছে, আয়োজক হিসেবে ভারত অন্তত ৫০ হাজার বাংলাদেশি দর্শক ও সমর্থকের ভিসা দেবে কি না, এ প্রশ্নটি আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলুক বিসিবি।
তাদের যুক্তি, দর্শক ছাড়া পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ সম্ভব নয়, আর ভারত–বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য বিবেচনায় গ্যালারি ভরিয়ে তোলার মতো সমর্থক সরবরাহে কোনো বাস্তব বাধা নেই।
ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা–উদ্বেগের কারণে আগেই ভারতের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ, ম্যাচগুলো সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এখন সমর্থকদের নতুন প্রশ্ন—যদি শেষ পর্যন্ত ভারতেই ম্যাচ হয়, তাহলে বিসিবি কি আইসিসির কাছে সমর্থকদের ভিসা–সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইবে?
সমর্থকদের বক্তব্য, বিশ্বকাপ মানেই উৎসব; শুধু খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ আর সীমিত সংখ্যক অফিসিয়ালকে ভিসা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গ্যালারিতে পতাকা, স্লোগান, ড্রাম, সেই সঙ্গে প্রবাসী ও দেশ থেকে যাওয়া সমর্থকদের ঢল ছাড়া বিশ্বকাপের আবহ তৈরি হয় না। তাই তারা বলছেন, বিসিবি আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় প্রশ্ন তুলতে পারে—ভারত কি অন্তত ৫০ হাজার বাংলাদেশি দর্শক ও সমর্থকের জন্য বিশেষ ভিসা কোটার নিশ্চয়তা দেবে?
দর্শকদের আরও যুক্তি, ভারত কোনো দূর ইউরোপ–আমেরিকা নয় যে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে; সড়ক, রেল ও আকাশপথ—তিন মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক সমর্থক যাওয়া সম্ভব। বাস্তবে যদি ভিসা দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের সমর্থকরা স্টেডিয়াম ভরিয়ে তোলার সামর্থ্য রাখে, যা বিশ্বকাপের পরিবেশকেও সমৃদ্ধ করবে। এ অবস্থায় একতরফা বা সংকুচিত ভিসা–নীতিকে তাঁরা কেবল রাজনৈতিক নয়, ক্রীড়া–চেতনার বিরুদ্ধ বলেও দেখছেন।
প্রায় দেড় বছর ধরে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা–প্রক্রিয়া কঠোর করে রেখেছে—এমন অভিযোগও নানা মহল থেকে এসেছে। সমর্থকদের মতে, এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিসিবির উচিত আইসিসিকে প্রশ্ন করা, আয়োজক দেশ কি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আলাদা, স্বচ্ছ ও পর্যাপ্ত ভিসা ব্যবস্থা করবে, নাকি বর্তমান কড়াকড়ি নীতিই বজায় থাকবে।
ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত, বিসিবি যদি সমর্থকদের এই দাবিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়, তাহলে বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা নয়, ‘অ্যাক্সেস অ্যান্ড ফেয়ারনেস’—অর্থাৎ সুযোগ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে আইসিসির সামনে যাবে। এতে একদিকে সমর্থকদের ভিসা–অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, অন্যদিকে আয়োজক হিসেবে ভারতের ওপরও নৈতিক চাপ তৈরি হবে, যাতে তারা বিশ্বকাপকে সত্যিকারের বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত করার পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
২০৩ বার পড়া হয়েছে