বাজার বাস্তবতায় আবাসন ঋণের সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনের ২৩ নম্বর বিধি সংশোধনের কথা জানায়। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং রিয়েল এস্টেট খাতে বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো একক গ্রাহককে সর্বোচ্চ কত টাকা আবাসন ঋণ দেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবাসন ঋণ পোর্টফোলিওর মান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত (খেলাপি) আবাসন ঋণের হার ৫ শতাংশ বা তার কম, তারা একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে।
যেসব ব্যাংকের খেলাপি আবাসন ঋণ ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।
আর যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত আবাসন ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন করতে পারবে।
এদিকে, আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঋণগ্রহীতার নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নিট নগদ আয় আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নীতিমালা ২০০৪ ও ২০১৯ সালে জারিকৃত পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে। তবে আবাসন ঋণের সীমা সংশোধন হলেও ভোক্তা ঋণসংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চাপে থাকা সম্ভাব্য গৃহমালিকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংকগুলোকেও আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে এই নীতিগত পরিবর্তন।
১৮০ বার পড়া হয়েছে