বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমান, প্রচারে ছবি ব্যবহারে অনিশ্চয়তা
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণায় ‘বর্তমান দলীয় প্রধানের’ ছবি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিষয়টি এখন দলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন পদটি শূন্য হয়। এরই মধ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দলের অনেক প্রার্থী ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল পোস্টার তৈরি করেছেন, যেগুলোতে খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে।
কিন্তু নির্বাচন আচরণবিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, কোনো দল মনোনীত প্রার্থী শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি প্রচারসামগ্রীতে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর প্রচারণায় কার ছবি থাকবে—তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান এখন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তবে বাস্তবে সব সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ জন্য শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পর বিএনপি সাত দিনের দলীয় শোক কর্মসূচি পালন করছে, যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। শোক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচারণার কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, নির্দেশ অমান্য করলে বহিষ্কারের তালিকা আরও বাড়তে পারে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, শোকের আবহ থাকলেও নির্বাচনী ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দলের লক্ষ্য, খালেদা জিয়ার প্রতি জনসমর্থন ও আবেগকে সংগঠিত করে নির্বাচনী শক্তিতে রূপ দেওয়া।
১২৮ বার পড়া হয়েছে