ইরানে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল জনপথ, সংঘর্ষে নিহত ৬
শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানে লাগামছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে।
সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে লরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন গুরুতর আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ‘নির্লজ্জ! নির্লজ্জ!’ স্লোগান দিচ্ছেন, একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে টানা গুলির শব্দ।
এদিকে তেহরান থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরেও সংঘর্ষে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও শক্তি প্রয়োগ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ ও ব্যাংকসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ‘বাসিজ’ বাহিনীর ২১ বছর বয়সী এক সদস্য নিহত হন। লরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সাঈদ পুরালি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের সময় দাঙ্গাকারীদের হামলায় ওই সদস্য প্রাণ হারান। বাসিজ বাহিনী ইরানের প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সহযোগী একটি আধাসামরিক সংগঠন।
এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন ইরানের অর্থনীতি ৪০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির চাপে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় ও তীব্র জনবিক্ষোভ। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সরকার এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সতর্ক কৌশল নিচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট লাঘবের আশ্বাস দিচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে ‘যৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে সেগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবিকার সংকট সমাধান করতে ব্যর্থ হলে শাসকগোষ্ঠীকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে একই সঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির মদত পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে