ভারত অনুমতি না দেওয়ায় ভুটানের পণ্য বুড়িমারীতে আটকা
রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে পণ্য পরিবহনের প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট কার্যক্রম শুরুতেই সমস্যায় পড়েছে।
ভারতের সীমান্তপথ ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি কনটেইনার লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৫ দিন ধরে আটকে রয়েছে।
গত ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে কনটেইনারটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ না থাকায় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের উদ্দেশ্যে পণ্য পাঠানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রবেশের অনুমতি মেলেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ-ভুটান প্রটোকল চুক্তির আওতায় দুই দেশের কানেক্টিভিটি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ পরীক্ষামূলক পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়। গত এপ্রিলে ঢাকা-থিম্পু বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, সড়কপথ এবং ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দুটি চালান ভুটানে পাঠানো হবে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম চালানটি ব্যাংকক থেকে চট্টগ্রাম হয়ে বুড়িমারীতে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’ পাঠানো কনটেইনারটিতে ছয় ধরনের পণ্য রয়েছে-ফলের জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু ফ্লেভারের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর পণ্যটি স্থলপথে বুড়িমারী আনা হয়।
বেনকো লিমিটেডের প্রতিনিধি ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, 'ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্টের এই চালানটি বুড়িমারীতেই রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে আমরা পণ্য ওপারে পাঠাতে পারবো।'
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, কনটেইনারটি বৃহস্পতিবার থেকেই বন্দরের ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'ভুটানগামী এই চালানের সব কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ভারতের অনুমতির অপেক্ষা।'
শেষ খবর অনুযায়ী, ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ কখন অনুমতি দেবে-তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে।
১০৩ বার পড়া হয়েছে