সর্বশেষ

জাতীয়প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক-২০২৬ গ্রহণ করলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান
সারাদেশগাইবান্ধায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন: ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজশাহীতে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি অনুপস্থিত, বাবা-মায়ের জামিন বাতিল
পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শ্রমিক হত্যা: মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
ফরিদপুরে মেহগনি গাছ ভেঙে সড়কে, ক্ষতিগ্রস্ত ৩ ইজিবাইক
সুজানগরে জমি বিরোধের জেরে কৃষকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
মিঠাখালীতে বাবা-ছেলেকে কোপানোর মামলায় পদক্ষেপ নেই পুলিশের, অভিযোগ এলাকাবাসীর
টেন্ডার দাখিল নিয়ে চাটমোহরে জামায়াত নেতার ওপর হামলা
মাগুরায় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ ঘিরে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৪
মুক্তি পাচ্ছেন কক্সবাজারের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি
সোনাগাজীতে পিআইও ও অফিস সহায়ক ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে আটক
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত
আন্তর্জাতিকনরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর: পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ
খেলাটি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ: সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান
মতামত

স্মৃতি লিখন: কবি সৈয়দ আবদুস সাদিক

কাজী আখতার হোসেন
কাজী আখতার হোসেন

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৪ ১:০৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
১৯৭৬ সনে কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরীতে কুমারখালী সাহিত্য পরিষদের কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান চলছিল। কুষ্টিয়া ও কুমারখালীর বেশ কয়েকজন কবি তাতে অংশ নেন। সে সময় এই জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর সঞ্চালনার দায়িত্ব সাধারণত আমি পালন করতাম।

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কুষ্টিয়ার কবিদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সুকুমার দা এইসব ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।


পাবলিক লাইব্রেরির তখনকার ক্ষুদ্র পাঠকক্ষের চেয়ার গুলো আমরা একদিকে গুছিয়ে রেখে অনুষ্ঠানের জায়গা করে নিতাম। পুরিসর ছোট হলেও এক মায়াময় পরিবেশ আমাদেরকে হৃদয়গ্রাহী করে তুলতো। সেই সব দিনের স্মৃতি কখনো ভুলবো না। কবি অশোক সাহা কে দিয়ে সাধারণত আমি উদ্বোধন করাতাম কবিতা পাঠ।


সেই সময় এই অনুষ্ঠান চলাকালে একজন আমাদের মাঝে ঢুকে বসলেন। আমি তাকে আগে থেকেই চিনতাম সেই ১৯৬৫ সন থেকে। দরগাবাড়ির নাতি ছেলে সৈয়দ আবদুস সাদিক। তখন খুলনায় থাকতেন। বললেন তিনি কবিতা পাঠ করবেন এবং করলেনও পরপর দুটো কবিতা।


আমাদের সেই সময়ে পঠিত কবিতাগুলোর উপর তুমুল আলোচনা হতো। দেওয়ান সাহেব এবং আমরা অনেকেই আলোচনা করতাম। সাদিক ভাইয়ের পঠিত কবিতার উপরে তাৎক্ষণিকভাবে আমি অনেকক্ষণ আলোচনা করি। আমার আলোচনায় উনি খুবই খুশি হন এবং বলেন তুমি যা বললে এগুলো আমাকে একটু লিখে পরে জানিও। সেই আমার প্রথম কবি সৈয়দ আবদুস সাদিকের সঙ্গে কাব্য যোগ স্থাপন।


আমার জানা ছিল উনার ছাত্র জীবন কেটেছে করাচি ও কুষ্টিয়াতে। খুলনার কবিতাঙ্গনে একসময় তিনি ছিলেন বিশিষ্ট একটি নাম। সৈয়দ সোহরাব আলী ও সৈয়দ আব্দুস সাদিক তখন খুলনার দুই জনপ্রিয় কবি।


সাদিক ভাইয়ের দিন রাতের বেশিরভাগ সময় সম্ভবত কবিতার চিন্তাতেই কাটতো। ফেসবুকে তার চেয়ে বেশি কবিতা খুব কম লোকই লিখেছেন। একজন প্রকৃত কবির সবসময়ই নিজের কবিতার প্রতি থাকে অসম্ভব রকম দুর্বলতা। উনারও ছিল। যেকোনো পরিবেশে কবিতা পড়তে তার কোন কার্পণ্য ছিল না। আমাদের দেশে কবিতায় কিছুটা নাম করলে কবিরা সাধারণত নিজেদেরকে বড় ভাবতে শুরু করে এবং সব জায়গাতে কবিতা পড়লে দাম কমে যাবে মনে করেন। সাদিক ভাই ছিলেন ব্যতিক্রমী। ফুটপাথ হোক কোন জলসা ঘরে হোক যে কোন স্থানেই তিনি কবিতা পাঠ করে মজা পেতেন। যাকে বলে নিবেদিত প্রাণ কবি।


কবির সঙ্গে আরও অনেকের মতো আমারও রয়েছে প্রচুর স্মৃতি। গত বছর কবিকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার দেয়া যায় কিনা তা নিয়ে আমি কিছুটা এর ওর কাছে বলাবলি করেছিলাম ; অন্তর্গত তাগিদেই।


আজ কবি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু কুষ্টিয়া কুমারখালীর কাব্য প্রিয় মহলে এখনো শোকের ছায়া বিদ্যমান। আমার সঙ্গে টেলিফোনে মাঝে মাঝেই আলাপ হত নানা বিষয়ে। আজকে কবির স্মরণে কি করা হবে তার একটি প্রস্তুতি সভা হয়েছে যা লিটন আব্বাস আমাকে জানিয়ে ছিলেন। যেটাই করা হোক শোক সন্তাপ নিয়ে দূরে থেকে হোক কাছে যেয়ে হোক আপনাদের সঙ্গে আমি আছি।

 লেখক: কবি ও সাবেক সচিব

৬৬১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন