রংপুরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে শিক্ষকের মৃত্যু, সংঘর্ষে আহত ৩
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর বিভাগীয় নগরীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোববার ভোর থেকে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন তেল পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করলেও অনেকেই তেল ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন।
এ অবস্থায় কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সামসুল আলম নামে একজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শত শত মোটরসাইকেল তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি আনতে ট্যাংক লরি ডিপোতে গেছে, তবে কখন পৌঁছাবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সহকারী ম্যানেজার মনা। দুপুর ১২টার দিকে ট্যাংক লরি আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় এক ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীদের অতিক্রম করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্যরা বাধা দেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই ব্যক্তি তার লোকজন নিয়ে এসে সামসুল আলমকে মারধর করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাকালে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, শনিবার রাতে নগরীর কেন্দ্রীয় টার্মিনাল এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় মেহেদী হাসান নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বাড়ি নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া মহল্লায়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নগরীর কোনো ফিলিং স্টেশনেই সঠিকভাবে সিরিয়াল বজায় রাখা হচ্ছে না। এক শ্রেণির দালাল অর্থের বিনিময়ে লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে দিচ্ছে। শহিদার রহমান নামে এক গ্রাহক জানান, তিনি সকাল ৮টা থেকে অপেক্ষা করছেন, অথচ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রতি মোটরসাইকেল থেকে ১০০ টাকা নিয়ে লাইনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই অভিযোগ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মামুনসহ আরও অনেকেই।
এ বিষয়ে ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার আব্দুল্লাহ বলেন, “এটি দেখভালের দায়িত্ব পুলিশের, কিন্তু তারা এখানে আসে না। আমাদের করার কিছু নেই।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, তেল সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ফিলিং স্টেশন প্রতি লিটারে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত কম তেল দিচ্ছে। গ্রাহকদের দাবি, মেশিন এমনভাবে সেট করা হয়েছে যাতে কম তেল সরবরাহ করা যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জেলা প্রশাসন কিংবা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কার্যকর কোনো তৎপরতা নেই বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, রংপুর মহানগরীতে প্রায় ৪০টির মতো ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তবে কখন কোথায় তেল সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো পূর্বঘোষণা না থাকায় গ্রাহকদের এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ফুয়েল কার্ড চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
১২২ বার পড়া হয়েছে