সর্বশেষ

সারাদেশ

পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ দিনের বর্ষবরণ উৎসব শুরু: কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা

মোহাম্মদ সোলায়মান, রাঙামাটি
মোহাম্মদ সোলায়মান, রাঙামাটি

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তিন দিনের বাংলা নববর্ষ বরণ ও বিদায় উৎসব শুরু হয়েছে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে।

আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন।

সকালে শহরের গর্জনতলী এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায় এবং রাজবাড়ি ঘাটে চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষ গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদন করেন। এ সময় নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে অংশ নেন। ফুল ভাসানোর পর কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়।

গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈসুক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৈসুক উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। এই উৎসব পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ উৎসবের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি চর্চা করে এবং দেশ-বিদেশে তা তুলে ধরে।

অন্যদিকে রাজবাড়ি ঘাটে বিজু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই, সাংক্রান ও পাতা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শহরের কেরানী পাহাড় এলাকায় চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গা ও মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন।

তিন দিনের এই উৎসবে আজ রবিবার পালিত হচ্ছে ‘ফুল বিজু’। আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে মূল বিজু। এদিনের প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’—বিভিন্ন ধরনের মিশ্রিত সবজি দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা চৈত্র মাসের সব ধরনের সবজি দিয়ে প্রতিটি ঘরে রান্না করা হয়। পাশাপাশি পিঠা-পুলি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হবে।

উৎসবের তৃতীয় দিন পালিত হবে ‘গজ্জাপজ্জা’। এদিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ উদযাপনে অংশ নেবেন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রাও বের করা হবে।

এদিকে সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবকে ঘিরে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নানা এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরাও এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। ফলে এটি একটি সার্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

শনিবার রাঙামাটি স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। চট্টগ্রাম থেকে আগত সাংবাদিক মঞ্জু বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দীর্ঘদিনের। এ উৎসবে সমতলের বাঙালিরাও অংশ নিয়ে প্রমাণ করছে বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ।”

স্থানীয় বাসিন্দা মিনারা এরশাদ বলেন, বাঙালিদের অনুষ্ঠানে পাহাড়িরা যেমন অংশ নেন, তেমনি প্রতি বছর পাহাড়িদের বর্ষবরণ উৎসবে বাঙালিরাও অংশগ্রহণ করেন। এই সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
 

১৩২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন