সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধানমন্ত্রীর দেশকে ভালোবাসার আহ্বান
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই সশস্ত্র বাহিনীর পথচলার প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই প্রতিটি সদস্যের একমাত্র ও পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। তিনি বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ একটি বড় অর্জন, এবং বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
তিনি বলেন, এমন একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে হবে যাদের বহিঃশক্তি সমীহ করবে এবং দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে বাহিনীকে সর্বদা উচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
এছাড়া তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে