বরগুনায় ডেঙ্গু-হামের পর ডায়রিয়ার তীব্র প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় একের পর এক সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ডেঙ্গু ও হামের আতঙ্ক কাটার আগেই নতুন করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন। এছাড়া শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ৮ ঘণ্টায় আরও ২১ জন রোগী একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমতলীতে ১৩ জন, বেতাগীতে ৫ জন, বামনায় ৫ জন, পাথরঘাটায় ১৬ জন এবং তালতলীতে ৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহে জেলায় মোট ৩৪৯ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জনে।
জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুমি পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে ডায়রিয়ার বিস্তার ঘটছে। তীব্র গরম ও পানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাজকিয়া সিদ্দিকাহ জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একসঙ্গে বাড়ছে। চিকিৎসক সংকট থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গর্জনবুনিয়া গ্রামের জাকির হোসেন জানান, সকালে পেটব্যথা শুরু হয়ে কয়েকবার পাতলা পায়খানা হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। একইভাবে খেজুরতলা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব উষা রানী এবং চার মাস বয়সী শিশু জিহাদকেও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাতাহ বলেন, পচা খাবার গ্রহণ, মৌসুমি ফল বিশেষ করে তরমুজ বেশি খাওয়া এবং বিশুদ্ধ পানির অভাব ডায়রিয়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া দূষিত পানির কারণে টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৫২ বার পড়া হয়েছে