চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে নিরাপদে ফিরলেন চার নভোচারী, আর্টেমিস-২ মিশনের সফল সমাপ্তি
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী। শনিবার সকালে তাঁদের বহনকারী ওরিয়ন স্পেসক্রাফট ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূল সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করে।
সমুদ্রে অবতরণের পর নভোচারীদের দ্রুত উদ্ধার করে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থা-তে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরে আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
মিশনের কমান্ডার রিড উইজম্যান অবতরণের পর বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ এক যাত্রা, আমরা সবাই সুস্থ আছি।” উদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্রথমে ক্যাপসুল থেকে একটি ছোট নৌযানে এনে, সেখান থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জাহাজে স্থানান্তর করা হয় নভোচারীদের।
গত ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অভিযান নির্ধারিত ১০ দিনের আগেই শেষ হয়। মোট সময় লাগে ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। অভিযানে অংশ নেন ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন।
এই মিশন একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী কক্ষপথে অবস্থানের সময় তাঁদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙেছে। একই সঙ্গে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের নজির স্থাপন করেছেন।
মিশন চলাকালে নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে একাধিক উল্কাপাতের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন, যা তাঁদের জন্য ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা।
এই অভিযানটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানব অবতরণের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি বড় অগ্রগতি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে আরও মহাকাশ অভিযান এবং মঙ্গল গ্রহে মানব পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে