গৌরীপুরে ফিলিং স্টেশন থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও, ম্যানেজার গ্রেফতার
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় জ্বালানি সংকটের মধ্যেই একটি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার লিটার তেল ‘গায়েব’ হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
এ ঘটনায় তেল মজুত, তথ্য গোপন এবং কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনটির ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডৌহাখলা ইউনিয়নের ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’-এ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনি।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নজরদারির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল স্টেশনটিতে সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে এবং বাকি তেলের কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তার এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো সঠিক হিসাব নেই, যা কার্যত উধাও হয়ে গেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, অভিযুক্ত ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনটি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২০১ বার পড়া হয়েছে