সর্বশেষ

সারাদেশ

এক পা হারিয়েও থেমে নেই ইসমাইল, কৃত্রিম পায়ের আশায় দ্বারে দ্বারে

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
এক পা না থাকলেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি ইসমাইল তালুকদার (২৬)। ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হলেও ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে না নিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে জীবনযাপন করছেন তিনি।

তবে তাঁর চলাফেরা ও জীবনকে আরও স্বচ্ছল করতে একটি কৃত্রিম পা প্রয়োজন, যার জন্য তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল তালুকদার, জালাল তালুকদারের ছেলে। একসময় তিনি ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাত বছর আগে সড়কের পাশে ট্রাক সরানোর সংকেত দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। সে সময় ট্রাকের একটি চাকা তাঁর ডান পায়ের ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়।

চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তিন বছর আগে তাঁর স্ত্রী বাড়ির টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান। এত কিছুর পরও মনোবল হারাননি ইসমাইল। এক পায়ে ভর দিয়েই ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে পা না থাকায় প্রতিদিনই তাঁকে চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।

ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সিফাত আকন বলেন, “ইসমাইলকে দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে। সে ভিক্ষা না করে নিজের এক পায়ে ভর দিয়ে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে যেন একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।”

অপর বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “ইসমাইলের জীবনটা সত্যিই কষ্টদায়ক। পা না থাকায় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে গেছে। নিজের চিকিৎসার জন্য জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তারপরও তিনি হেরে যাননি। ভিক্ষার পরিবর্তে অটো চালানোর পেশা বেছে নিয়েছেন। আমরা অনেক স্থানে দেখেছি সরকার পঙ্গু মানুষকে কৃত্রিম পা প্রদান করে। তাই ইসমাইলকেও একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাই।”

ইসমাইল তালুকদার বলেন, “প্রায় সাত বছর আগে আমি যখন চালককে সিগনাল দিয়ে ট্রাকটি পাশে সরাতে বলছিলাম, তখন ভুলবশত সে ট্রাকের একটি চাকা আমার পায়ের ওপর উঠিয়ে দেয়। পরে কলাপাড়া, পটুয়াখালী এবং ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসা করতে গিয়ে এখন আমি দায়-দেনায় জর্জরিত। জীবিকা নির্বাহের জন্য অটো চালানোর পেশা বেছে নিয়েছি। কিন্তু আমার কৃত্রিম পা কেনার সামর্থ্য নেই। সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি যদি আমাকে একটি কৃত্রিম পা দিতেন, তাহলে খুব উপকার হতো।”

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ইসমাইল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত। তাঁর কৃত্রিম পায়ের সমস্যার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
 

২২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন