কলাপাড়ায় দাখিল মাদ্রাসায় গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একটি দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি অতি গোপনে গঠনের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ডালবুগঞ্জ নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নীতিমালা অনুসরণ না করেই এই কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ওই মাদ্রাসার তিনটি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা বৈধ করতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সুপার আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতার পুত্র কে এম মনিরুজ্জামান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, এমপিওভুক্ত নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবদুল আউয়াল শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্য করতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। এ কারণে অনিয়মের মাধ্যমে রেজুলেশনে তফসিল দেখিয়ে অতি গোপনীয়ভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি ঢাকার একটি অপরিচিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে মনিরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, এটি তার নিজ বাড়ির প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠাতার সন্তান হিসেবে অভিভাবক ও কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে তিনি একাধিকবার সুপার আউয়ালকে ফোন করলেও সন্তোষজনক জবাব পাননি। বরং সুপার প্রতিষ্ঠানটিতে আসা বন্ধ করে দেন। এমনকি মাসে মাত্র একদিন মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পাঠদানে অনুপস্থিত থাকায় অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ক্লাস শেষ করে চলে যান। ফলে দিন দিন ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ বিষয়ে নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার পুত্র কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, “ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন সুপার আউয়াল। এখন সেই টাকা বৈধ করতে অতি গোপনীয়ভাবে বন্ধের মধ্যে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তিনি এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবদুল আউয়াল বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও ক্লার্ক সংকট থাকায় নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো টাকা গ্রহণ করিনি।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন খান বলেন, “আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
২২৯ বার পড়া হয়েছে