সর্বশেষ

মতামত

ড. ইউনূস: এভাবে লিখতে হবে ভাবিনি

শিপন হালদার
শিপন হালদার

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০০৩ সালের কথা। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, পাশাপাশি কাজ করি দৈনিক দেশবাংলা পত্রিকায়। ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী সম্পাদক। বার্তা সম্পাদক ছিলেন আজকে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক আবু তাহের।

পার্বত্য একটি জেলায় ঋণ পরিশোধ না করায় এক বৃদ্ধার বাড়ির থেকে গবাদি পশু কেড়ে নিয়ে যায় গ্রামীণ ব্যাংক। খবরটি প্রকাশ করে দেশবাংলা। তাহের ভাইকে পরদিন রুমে ডেকেছিলেন কোরেশী ভাই। জানিয়েছিলেন, 'ড. ইউনূস খবরটি পড়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের ইমেজ রক্ষায় সহযোগিতা চেয়েছেন। তাকে আমাদের সহযোগিতা করা দরকার।'

ঘটনাটি এই কারণে উল্লেখ করলাম। সরাসরি তখনকার পরিস্থিতি দেখা সুযোগ হয়েছিল আমার। গ্রামীণ ব্যাংক এরকম খবর ধামাচাপা দিয়েছে অনেক। সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে অনেক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। কেউ কেউ সুবিধা নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছে। আর কেউবা জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করতে চাননি। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে নীরব থেকেছেন। কোন ঝামেলায় জড়াতে চাননি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সবসময়ই আলোচনা-সমালোচনা ছিল, আছে, থাকবে। কারণ, এমন ব্যক্তিত্ব পৃথিবীতে বিরল! সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ড. ইউনূসের সমালোচনায় মুখর থাকতেন সবসময়। দু'চোখে দেখতে পারতেন না এই 'সুদখোর'কে। এ কারণে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। শাস্তির মুখোমুখিও করেছেন। গুনতে হয়েছে জরিমানাও।

দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্রঋণের কারণে বিশ্বব্যাপী বরেণ্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সামাজিক ব্যবসার মডেলও বিভিন্ন দেশ অনুসরণ করছে। এখন আবার আলোচনায় 'তিন শূণ্য'। সবকিছু ঠিক ছিল, শুধু ঠিক নেই রাজনীতি আর ক্ষমতায় আসাটা। ক্ষমতার চেয়ারে বসে পরাক্রমশালী একটি দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন শুধু। অনেকে বলছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার কারণে ড. ইউনূস 'মহানায়ক' থেকে 'মহাভিলেন' বনে গিয়েছেন।

যাই হোক, পুরষ্কার আর ক্ষমতার লোভ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনেক আগে থেকেই। বলতে গেলে সবগুলোই নিজের শোকেসে স্থান দিয়েছেন। হিলারি ক্লিনটনের বন্ধু হিসেবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন বলেও জোর গুঞ্জন ছিল। লবিস্ট নিয়োগে কথা শুনি আমরা। যেটা বলছিলাম, নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় রাজনৈতিক দল গঠনের কার্যক্রম করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন ড. ইউনূস। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরাতে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বেশ আলোচনায় ছিল।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে এবং ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। যদিও ফখরুদ্দিন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করার আগে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। গবেষক-লেখক মহিউদ্দীন আহমেদ একটি লেখায় দুজন সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিখেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস কেয়ারটেকার সরকার প্রধান হওয়ার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল এই সরকারের স্বল্প মেয়াদ। সে লেখার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ইউনূস বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, "সেনাবাহিনীর প্রস্তাবে আমি কেন রাজি হইনি এ বিষয়ে যে কারণ তারা উল্লেখ করেছেন তা একেবারেই কল্পনাপ্রসূত।

একটা সময় গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আন্দোলন, বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি গণমাধ্যমে নিয়মিত উঠে আসতো। গ্রামীণ ব্যাংকে যেতে দেওয়া হতো না ড. ইউনূসকে। এই ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূস একে এক গড়ে তোলেন সাতটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো-গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী এবং গ্রামীণ শক্তি। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কখন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? এগুলোর কাজই বা কী? সম্পদের পরিমাণই বা কত? জনগণ তার প্রকৃত হিসেব জানতে পারেনি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণ ফোনে প্রায় ৩৪.২০% শতাংশ মালিকানা রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। বর্তমানে গ্রামীণ টেলিকমের তহবিলে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা রয়েছে। ২০২৪ সালের এই হিসেব ছাব্বিশে এসে আরও বাড়বে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এরপর টানা প্রায় ১৬ বছর দেশে চেপে বসা এক দলীয় শাসনের অবসান ঘটলো। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন বিপ্লবের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সুযোগে ৮ আগস্ট মহানায়কের মতো ফ্রান্সের প্যারিস থেকে উড়ে এসে দেশের হাল ধরলেন নোবেলজয়ী এই অধ্যাপক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হলো অন্তর্বর্তী সরকার। তরুণ প্রজন্ম এক বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলো। ছাত্র-জনতার স্বপ্নকে ধীরে ধীরে অর্থহীন কাগুজে পরিণত করলো। দেড় বছরের শাসনকালে দেশজুড়ে মব জাস্টিস এর নামে দিনেদুপুরে পিটিয়ে মানুষ হত্যা দেখলো মানুষ। গায়েবি মামলার প্রতিযোগিতা দেখলো, দেখলো সীমাহীন বিচারহীনতা। চরম নিরাপত্তায় ভুগতে থাকা মানুষ দেখলো শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধির দীর্ঘ তালিকা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে কার্যত বঙ্গভবনে পুতুল করে রাখা হলো। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেও দেওয়া হলো না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। সরকারি অফিস-আদালত, বিদেশি দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে সরিয়ে ফেলা হলো রাষ্ট্রপতির ছবি। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও সবকিছু জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেখা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে নিজের ও নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ হাসিলে বেশি ব্যস্ত ছিলেন ড. ইউনূস। ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসে তিনি মেতেছিলেন নজিরবিহীন ‘স্বার্থের উৎসবে’। ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিনের ২২টি আবেদন ঝুলে থাকলেও মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অনুমোদন। আইনের তোয়াক্কা না করে ৫ কোটির পরিবর্তে মাত্র দেড় কোটি টাকার তহবিলেই মিলেছে এই অনুমোদন। যেখানে ক্ষমতার প্রভাব স্পষ্ট।
গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্র অন্তত এক হাজার কোটি টাকার নিশ্চিত রাজস্ব হারাবে। গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকি এবং ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের সব সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের আলোচিত ৭টি মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি দান করেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর আটকে থাকার পর ইউনূসের গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসের জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ও ই-ওয়ালেট লাইসেন্স নিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় লাভজনক পজিশনে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের সুবিধা গ্রহণ করে সংবিধানের ১৪৭ ধারা লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ বলছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই কর্মকাণ্ডকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস চরম ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, সাংবিধানিক পদে থেকে এসব ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়া সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন।

বড় একটি রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে একটি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিরাপদে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার কূটকৌশলেও সফল হতে চেয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরিকল্পনা মতো গ্রামীণ ব্যাংকে সময়ও দিচ্ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতেও অতীত নিষ্ঠুর হয়ে সামনে আসছে। প্রকাশ পাচ্ছে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিশ্বাসঘাতকের নিষ্ঠুর চেহারা। দিন দিন মানুষের মনে ড. ইউনূসের প্রতি ঘৃণা তৈরি হচ্ছে। স্বার্থলোভী, স্বৈরাচার ও বিশ্বাসঘাতককে আবারও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে কত সময় লাগবে-তা কেবল সময়ই বলতে পারে। তবে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই দুদক তদন্ত করবে। তথ্য-প্রমাণ মিললে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না-সে প্রত্যাশা করি। এরইমধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দেখা যাক, সামনের দিকে কি হয়?

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম একটি গণমাধ্যমকে খোলামেলা কথা বলেন। জানান, 'যারা বিরোধী দলে আছে তাদেরকে মেইন স্ট্রিমে আসতে দেননি।' বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি রাজনৈতিক দলকে মিন করিনি, আমি উগ্রবাদকে মিন করেছি।’ তাঁর বক্তব্যের পর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট গণনা, রেজাল্ট শিট তৈরি, ফলাফল ঘোষণা—নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই কারচুপি করা হয়েছে।

এই বিতর্ক শেষ হতে না হতেই সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই যোদ্ধা, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া 'ডিপ স্টেট' এর কথা বলে একরকম বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডিপ স্টেট’ তাঁদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। ‘আমরা (অন্তর্বর্তী সরকার) যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে ডিপ স্টেট বলা হয়, তাদের থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল—‘‘আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত শেষ করেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’’’

সবশেষ বোমা ফাটিয়েছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসমস্ত চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি। কারণ সেটা আমার এরিয়া কনসার্ন না। ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর ইস্যুতে যে আলোচনা করা হয়েছে, সেখানেও আমাকে ডাকা হয়নি। সেটা স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কনসার্ন কয়েকজন উপদেষ্টাদের নিয়ে বসতেন।

আজ এটা পরিষ্কার যে, অন্তর্বর্তী সরকার একহাতে চালাতেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাউকে পরোয়া করতেন না। রাষ্ট্রের যা কিছু গোপন সবকিছু একাই 'চরম স্বৈরাচার' এর মতো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেন? বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, এর শেষ অংশ এখানে তুলে ধরলাম। তিনি লিখেছেন, ইউনূস ও আসিফ নজরুলরা দেশটাকে মবের মুল্লুক বানিয়েছিলেন। নিষ্ঠুর শাসক হিসেবে ইউনূসের নাম থাকবে বাংলাদেশে। এত ভয়াবহ শাসক বাংলাদেশে কোনো দিন কেউ দেখেনি। আগামীতে দেখবে না।

সবশেষে বলতে চাই, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের আশা-আকাঙ্খা, তারুণ্যের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। জুলাই বিপ্লবে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ও নিজ প্রতিষ্ঠানের আখের গুছিয়েছেন। হামের টিকা নিয়ে জালিয়াতি করেছেন; শতাধিক শিশুকে হত্যা করেছেন। বাংলাদেশের স্বার্থকে গোপন চুক্তির মাধ্যমে বিকিয়ে দিয়ে প্রতারণা করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবমাননা করেছেন। চতুরতার সাথে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এসব ঘটনা কী অন্তরালে থেকে যাবে? দুদকে জমা পড়া শতশত অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দেখতে চাই। ডিপ স্টেটের কাছে বাংলাদেশের পরাজয় দেখতে চাই না। আমরা ন্যায়বিচার, ন্যায্যতা ও সাম্যের বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা কি এভাবে প্রতারিত হতেই থাকবো? আমাদের স্বপ্নগুলো এভাবে চুরি হয়ে যাবে? আমরা একজন 'মহাভিলেন' এর 'মহাপ্রলয়' দেখার অপেক্ষায়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।

২০১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন