বাউল শিল্পী আবুল সরকারের ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর জনপ্রিয় বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন, কেন আবুল সরকারকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তার আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এর আগে বিচারিক আদালতে দুই দফা জামিন আবেদন করা হলেও গত বছরের ২৩ নভেম্বর ও ৮ ডিসেম্বর তা নামঞ্জুর করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় ‘খালা পাগলীর মেলা’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি পালাগানের আসরকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় আবুল সরকার ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরের একটি গানের আসর থেকে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। পরে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।
মামলার পর থেকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে রাখা হয়। বাউল সমাজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা তার মুক্তির দাবি জানালেও প্রাথমিক শুনানিতে তিনি জামিন পাননি।
হাইকোর্টের সর্বশেষ এ আদেশের ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আবুল সরকার। তার আইনজীবীর দাবি, বাউল দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে করা মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে।
উচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। উল্লেখ্য, বাউল গান ও লোকসংগীতের ক্ষেত্রে আবুল সরকার একটি পরিচিত নাম। তার জামিনের খবরে মানিকগঞ্জ, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পী মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে আদালতের জারি করা রুলের জবাবের ওপরই তার স্থায়ী জামিনের বিষয়টি নির্ভর করছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা বা মানিকগঞ্জ কারাগার থেকে তার দ্রুত মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শরিয়ত ও মারফতি গানের পালাগানের আসরে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিক বাউল শিল্পী আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আবুল সরকারের মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে