বরিশালে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান কার্যক্রম
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বরিশালেও শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম একযোগে জেলা ও নগরী পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল এলাকায় নাজিম মৃধার বাড়ির সংলগ্ন টিকা কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা মজুদ রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রথমে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ হবে। তিনি অভিভাবকদের হাম ও রুবেলা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান।
একই দিনে সকাল ১১টায় বরিশাল নগর মাতৃসদন হলরুমে নগর পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী।
প্রধান অতিথি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশালের কিছু এলাকা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগ শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল জানান, নগরজুড়ে স্বাস্থ্য টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. মুনমুন জাহান সুমি বলেন, শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের চারটি উপজেলায় এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হামে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহজনক আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ৪৮৫ জন রোগী হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ২৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৬১২ জন।
কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হবে। নগরীর ১৫টি স্থায়ী কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্য বিভাগ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাস্তবায়নে এবং World Health Organization-এর কারিগরি সহযোগিতায় সম্পন্ন হচ্ছে।
শিশুদের সুরক্ষা এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ইপিআই টিমের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নগরীর কাউনিয়া মাতৃসদনে টিকাদান ক্যাম্পে শিশুদের টিকা প্রদান করা হয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে