পহেলা বৈশাখ ঘিরে জামালপুরে নকশী সূচিশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে জামালপুরে নকশী সূচিশিল্পীদের মধ্যে এখন তীব্র কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। জেলার হাজার হাজার নারী কর্মীর হাতে তৈরি নকশী কাঁথা, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া ইতোমধ্যে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়িয়েছে। বৈশাখের বাড়তি চাহিদা মেটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এসব কারিগর।
জামালপুরের নকশী কাঁথা জেলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ নারী এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈশাখ উপলক্ষে রঙ-বেরঙের সুই-সুতার কারুকাজে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পোশাক ও গৃহসজ্জার সামগ্রী। উন্নত মানের এসব পণ্য ইতোমধ্যেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূচিশিল্পী রাবেয়া জানান, বৈশাখকে ঘিরে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় রাত জেগেও কাজ করতে হচ্ছে। তবে এতে বাড়তি আয় হওয়ায় পরিবার নিয়ে নতুন বছর ভালোভাবে শুরু করার আশা করছেন তিনি। একই কথা জানান মনিকা, পারভিন ও কাকলীরাও।
বৈশাখ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা জামালপুরে ভিড় করছেন। ময়মনসিংহ থেকে আসা ক্রেতা সাঈদ বলেন, “জামালপুরের নকশী পণ্য সব সময়ই আমার পছন্দের। তাই বৈশাখ বা ঈদে এখান থেকেই কিনি।” আরেক ক্রেতা পারভেজ জানান, গরমের কথা মাথায় রেখে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পণ্য কেনার চেষ্টা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন মাঝারি উদ্যোক্তারা। শতদল হস্তশিল্পের মালিক শাহীন বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। স্বপ্ন ছোঁয়া হস্তশিল্পের মালিক সেলিম জানান, বৈশাখ ও গরমের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, থ্রিপিস ও ফতুয়া তৈরি করা হয়েছে, যার বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বৈশাখকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে জামালপুরের নকশী সূচিশিল্প খাত। নতুন বছরের আনন্দে ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতারা যেমন সন্তুষ্ট, তেমনি ভালো বিক্রির আশা করছেন উদ্যোক্তা ও কারিগররাও।
১২৭ বার পড়া হয়েছে