মহিপুরে জেলেদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ—২৭ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহে স্বস্তি
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের সমুদ্রগামী জেলেদের জ্বালানি সংকট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জরুরি ব্যবস্থাপনায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মাঝে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘ফরাজী ট্রেডার্স’ এবং কলাপাড়ার ‘বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন’-এর মাধ্যমে এই ডিজেল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ফরাজী ট্রেডার্সে ১২ হাজার লিটার এবং বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনে ১৫ হাজার লিটার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ছোট, মাঝারি ও বড় ট্রলারগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ৪০০ থেকে ১ হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে অন্তত ১০০টির বেশি ট্রলার সরাসরি উপকৃত হয়েছে এবং রবিবারও এই সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, জেলেদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে এবং সমুদ্রে মাছ ধরা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। তার আগে অন্তত একবার সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসন।
জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ট্রলারই সমুদ্রে যেতে পারছিল না। বড় ট্রলারগুলোর জন্য একবার সমুদ্রে যেতে ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। সংকট অব্যাহত থাকলে প্রায় আড়াই’শ ট্রলার ও প্রায় ২০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, জেলেদের স্বার্থ ও সমুদ্র অর্থনীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। একইসঙ্গে মৎস্য বন্দর মহিপুর আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা সরকারের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, জেলেদের সংকট নিরসনে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে