ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্রতর, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা প্রতিরক্ষা
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্য করে পুনরায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। হামলা প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান জানতে চান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসী বা উপনিবেশবাদী নীতি গ্রহণ করেনি এবং কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি। বরং ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশ্য পূরণের অংশ হিসেবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে তিনি এ দাবির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, এই সংঘাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ কী লাভ করছে, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, সামরিক অঙ্গনেও অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাজ্য।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিশ্বরাজনীতি ও জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অদূর ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।
১২৩ বার পড়া হয়েছে