রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বিপাকে সাধারণ মানুষ
বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিভাগীয় নগরী রংপুরসহ পুরো জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে হাজার হাজার মোটরসাইকেল অচল হয়ে পড়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কোনো পাম্পেই দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একাধিক পাম্প ঘুরেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
রংপুর জেলায় ডিজেল সংকট সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলায় ডিজেলের মজুত ছিল শূন্য। একই সময়ে পেট্রোল ছিল ২৬ হাজার ৫০০ লিটার, অকটেন ৩ হাজার ৫০০ লিটার এবং কেরোসিন ২৭ হাজার লিটার।
তবে বুধবার নগরীর কয়েকটি পাম্পে নতুন করে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে এবং সন্ধ্যার পর থেকে তা বিক্রি শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫০টি পাম্পের মধ্যে মাত্র ১৫টিতে জ্বালানি সরবরাহ রয়েছে। কোথাও পেট্রোল থাকলেও অকটেন নেই, আবার কোথাও অকটেন থাকলেও পেট্রোল নেই।
সালেক পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো তেল নেই। কর্মচারীরা জানান, আগের দিন বিকেলে ডিপো থেকে পাওয়া ৩ হাজার লিটার পেট্রোল রাতের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। পাম্পের ম্যানেজার আশরাফ বলেন, “আমাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৯ হাজার লিটার, কিন্তু সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার লিটার। এতে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।”
একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের একটি পাম্পে। সেখানে পেট্রোল না থাকায় শুধু অকটেন দেওয়া হচ্ছে, তাও জনপ্রতি ২০০ টাকার সীমায়। পাম্পের সামনে আধা মাইলজুড়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৩টা পর্যন্ত অকটেন সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাম্প ম্যানেজার জানিয়েছেন, বাস্তবে জ্বালানি সংকট থাকলেও তা স্বীকার করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, সংকট না থাকলে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হতো না।
নগরীর শাপলা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। চালকদের অভিযোগ, ৮-১০টি পাম্প ঘুরে এক-দুটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও সীমিত পরিমাণে। এতে তারা নিজেদের জিম্মি অবস্থায় মনে করছেন। এনজিওকর্মী রহমান মজিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তা জুনায়েত মাসুমসহ অনেকেই এ অভিযোগ করেন।
এদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দান ট্রেডার্স পাম্পে দায়িত্ব পালনরত এসআই শরীফ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ কাজ করছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে