প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এগিয়ে চলছেন কোন পথে?
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৭:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাজের সমালোচনা যেমন জরুরি, তেমনি তার ধরনও হওয়া চাই নির্মোহ ও গঠনমূলক। নিছক ঈর্ষাপরায়ণ নিন্দুকের বক্তব্য কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়, কারণ তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঠিক কোন পথে এগিয়ে চলছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই আমরা দেখতে পাই, তাঁর নেতৃত্বের দর্শন ও কার্যপ্রণালী একটি স্বতন্ত্র আদর্শের ইঙ্গিত বহন করছে।
বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন মাসও অতিক্রম করেনি। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার ধরন, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও অন্যদের প্রতি অসাধারণ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে এক ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর জবাবদিহিতার ভঙ্গি, ধৈর্য ও সংযত ভাষা—এসব গুণাবলি অনেকের কাছে নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে চলছেন কোন পথে?’—তাদের জন্য উত্তর হয়তো স্পষ্ট: তিনি এগিয়ে চলছেন কূটনৈতিক সৌজন্যবোধ, গণমুখী যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচার প্রতিষ্ঠার পথে। তবে এটাও বাস্তব যে, তাঁর অধীনস্থ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে এখনও অনেকে প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা প্রদর্শনে পিছিয়ে রয়েছেন। এটি সত্য যে, কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কর্মস্পৃহা এখনো দৃশ্যমান নয়।
তবে এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি যে, কোনও সরকারকে তার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া একদিনে পরিপক্ব হয় না। তাই অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সব বিষয়ে কঠোর সমালোচনা যুক্তিযুক্ত নয়। বরং ধৈর্য ধরে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে রচনামূলক পরামর্শ প্রদানই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রধানমন্ত্রী যে পথে এগোচ্ছেন, সেই পথের সফলতা নির্ভর করছে তাঁর নিজের নেতৃত্বের ওপর যেমন, তেমনই নির্ভর করছে তাঁর মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের সমন্বিত সক্ষমতার ওপর।
এক্ষেত্রে বিএনপি-সমর্থিত প্রেস ও মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা সহজবোধ্য ও বিশ্লেষণধর্মী আকারে উপস্থাপন করা। প্রচারের নামে অতিরঞ্জন বা একপেশে তথ্য উপস্থাপন সমন্বয়কে দুর্বল করে। সুষ্ঠু তথ্য পরিবেশনা সরকার ও সমালোচকদের মধ্যে ইতিবাচক সমন্বয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী যে পথে হাঁটছেন, সেটি যেন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সেটিও নিশ্চিত করতে হবে সংবাদমাধ্যমকেই।
অন্যদিকে, সরকারেরও উচিত কাজের গুরুত্ব ও জরুরিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকার যেমন জনবিশ্বাস অর্জন করতে পারে, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার জায়গাটিও সংকুচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতি বাস্তবায়নে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবে তিনি যে পথে এগোচ্ছেন, তা হবে একটি সুশাসনের আদর্শ পথ।
পরিশেষে বলা যায়, সমালোচনা যেমন স্বাস্থ্যকর গণতন্ত্রের প্রাণ, তেমনি অন্ধ নিন্দা তা ধ্বংসের হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন পথে এগোচ্ছেন—এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে, তিনি এগোচ্ছেন সংযত কূটনীতি, গণমুখিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারের পথে। সরকার ও সমালোচক—উভয় পক্ষই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও যুক্তিনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে, তবে দেশের অগ্রযাত্রা হবে সুস্থ ও সুদৃঢ়।
লেখক: গবেষক ও বিশ্লেষক (রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক)।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
১১১ বার পড়া হয়েছে